শাহবাগে আন্ডারপাস নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা

রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় শাহবাগ। গত নয় বছরে এ মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ নয় জন নিহত হয়েছেন। ২০০৫ সাল থেকেই এ মোড়ে পাতাল সড়ক (আন্ডারপাস) ও ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত বছরের ২৮ আগস্ট এ সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র মো. তৌহিদুজ্জামান বাসের ধাক্কায় নিহত হন। তখন সেপ্টেম্বর মাসেই আন্ডারপাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্কালীন প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও সেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। গত বছরের ২২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক শাহবাগ মোড়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) একটি আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। ঐ সময় ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় দশ মাস কেটে গেলেও ঐ প্রকল্পের ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা শুরুই করতে না পারার কারণ হিসেবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং বিদ্যুত্, পানিসহ কয়েকটি সেবা খাতের সংযোগ (ইউটিলিটি) প্রকল্প এলাকা থেকে অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সময়ক্ষেপণকে দায়ী করছে ডিএসসিসি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, বারবার সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত কিংবা গুরুতর আহত হলে আন্ডারপাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন গেলেই এ নির্মাণের কথা সংশ্লিষ্টরা ভুলে যায়। সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে তৌহিদুজ্জামানের মৃত্যুর পর গত নভেম্বরে আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ‘আরেকটি মৃত্যু না হলে এ নির্মাণ কাজ শুরু হবে না। টনক নড়বে না সংশ্লিষ্টদের। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আরেকটি মৃত্যুর প্রহর গুনছে ডিএসসিসিসহ নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা। ঐ মৃত্যুর পরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য গত বছর ২২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক শাহবাগ মোড়ে একটি ওয়ানওয়ে (একমুখী) আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখন ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ছয় মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। কিন্তু গতকাল রবিবার পর্যন্ত এই প্রকল্পের ডিজাইন তৈরি করা হয়নি। ছয় মাসের মধ্যে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও প্রায় দশ মাস কেটে গেলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। ডিএসসিসির একটি সূত্র জানায়, সরকারের এমআরটি-৬ (মার্স র্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্প এবং জাদুঘর-রমনা সংলগ্ন আরেকটি বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের আওতায় (কেইস প্রকল্প) ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প থাকায় আন্ডারপাসটি সিঙ্গেল লাইন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চার লেনের আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে শুধুমাত্র জাতীয় জাদুঘর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী পথচারীরা জাদুঘর থেকে আন্ডারপাস হয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল যেতে পারবে। সেখান থেকে বারডেম রমনায় যেতে ফুটওভারব্রিজটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ার কারণ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই বার টেন্ডার আহবান করেও ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। তৃতীয়বারে ঠিকাদার পেয়েছি। এ জন্য কিছু সময় ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুত্, গ্যাস, টিএন্ডটি এবং পানিসহ চারটি সেবা খাতের ইউটিলিটি রয়েছে প্রকল্প এলাকায়। এগুলো অপসারণ করতে কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অগ্রগতি না থাকায় নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারিনি। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে ডিজাইনটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। নির্মাণ কাজ শুরু করার সাথে সাথেই বুয়েটের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দল বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবে। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের আন্তরিকতার অভাব নেই। সেবা খাতগুলোর সাথে সমন্বয়ে কিছুটা সময় লাগছে। খুব দ্রুতই নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। এজন্য সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে শিগগিরই আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, আন্ডারপাসটির নির্মাণ বিষয়ে বেশ কয়েকবার সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা দ্রুত নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ করেছি।