গোয়ালন্দে ১ মাসে বিলীন হয়েছে সহস্রাধিক বাড়ি
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৬
গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে সহস্রাধিক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে। স্যানিটারি ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে বিপাকে রয়েছে এসব পরিবার। এছাড়া বাধ্য হয়ে তারা পানির দরে গাছপালাসহ অন্য উপকরণ বিক্রি করে দিচ্ছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাস ধরে দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি, সাজাপুর, চর দেলন্দি, বেথুরী ও দেবগ্রাম গ্রামের প্রায় ১৪০০ পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে অন্যত্র সরে গেছে। চর বরাট এলাকার পদ্মার নালা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে মানুষের ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন উপকরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। নদীর পাড়েই চর দেলন্দি থেকে কয়েকদিন আগে এখানকার পাঁচ কাঠা জমি ৫ বছরের জন্য ১৭ হাজার টাকায় সোনকরা নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন নাসির গায়ান (৪০)। তিনি জানান, নিজেদের অনেক জমি ঘর-বাড়ি সব হারিয়ে এখন অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এছাড়া এসব পরিবার ঘর-বাড়ি সরাতে বাধ্য হয়ে পানির দরে গাছপালাসহ গবাদি পশু বিক্রি করছে। বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীসহ অনেকেই কমমূল্যে কিনে নিচ্ছেন। দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, ইউনিয়নের ৩ ও ৫নং ওয়ার্ড নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ১নং ওয়ার্ড পানির নিচে এবং ২নং ওয়ার্ডের ৮০ ভাগ, ৪নং ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশ, ৬নং ওয়ার্ডের অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। এসব ওয়ার্ড থেকে গত এক মাসে ১৪০০ পরিবার বসত-ভিটা হারিয়ে রাস্তার ধারে, অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। বাকি তিনটি ওয়ার্ড ভাঙ্গনমুক্ত রয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছরোয়ার হোসেন বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতিমধ্যে ১৯.৭ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।