শতবর্ষীর ঘরে সপ্তম বিবি
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৬
আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসে সপ্তম বিবি রাহিমা খাতুনকে ঘরে তুললেন নান্দাইলের শতবর্ষী হারেছউদ্দিন মুন্সী। নিজের একটা ছাপড়া ঘর থাকলেও নেই বসতভিটের জায়গা। অন্যের জায়গায় বসবাস করেন তিনি। উপজেলার পশ্চিম বাঁশহাটি গ্রামে সরেজমিনে গেলে আলাপচারিতায় হারেছউদ্দিন মুন্সী জানান, বাংলা ১৩২৭ সালে তার জন্ম। বাবা আলী নেওয়াজ মুন্সীর প্রায় ৫ হাজার শতক জমি বিক্রি করে-করে খেয়েছেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে জীবিকার প্রয়োজনে রিকশা চালিয়েছেন। এখন তার একমাত্র আয়ের উত্স তিন মাস অন্তর পাওয়া বয়স্ক ভাতার টাকা। দীর্ঘ এই জীবনে একে একে ৭টি বিয়ে করেছেন তিনি। ২২ বছর বয়সে প্রথম স্ত্রী আমেনা খাতুনকে বিয়ে করে প্রায় ২০ বছর সংসার করেন। এ স্ত্রীর চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ৫ বছর সংসার করেন। এই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিয়ে করেন মজিদা আক্তারকে । মাত্র ৬ দিন সংসার করে চলে যান মজিদা। এরপর চতুর্থ স্ত্রী অরবুলা ১০ বছর সংসার করার পর তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পঞ্চম স্ত্রী ললিতা আক্তার দু’বছর সংসার করে চলে যান। এরপর বিয়ে করেন আয়শা আক্তার নামে আরেকজনকে। ষষ্ঠ স্ত্রী ৮ বছর সংসার করে মারা যায়। এবার গত আগস্ট মাসে সপ্তম স্ত্রী রাহিমা খাতুনকে জীবনসঙ্গী করেছেন তিনি। রাহিমা খাতুনের বাড়ি উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামে। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। হারেছউদ্দিন মুন্সী আরও জানান, ৪ বিবি রাখার নিয়ম থাকলেও আমার সামর্থ্য না থাকায় আমি একের পর এক ৭টি বিয়ে করেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে নিরোগ রেখেছেন। এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি। খালি চোখে কোরআন শরীফও পড়তে পারি। হারেছ মুন্সীর ছেলে নূরউল্লাহ্ (৪৫) বলেন, ‘বাবাকে এই বিয়েটা আমি করাইছি। আমি মাজারে মাজারে থাকি। অন্য ভাইরা আলাদা থাকে। তাই বাবার সেবা-যত্ন করার জন্যে এই মাকে আনছি।’