ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। ওয়েজ আর্নার হিসেবে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী, পুরস্কার এবং পারিশ্রমিকের ওপর অর্পিত আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে বৈঠকে এ সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিবেদনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এনবিআর-সংক্রান্ত বিষয়ে উত্থাপিত প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কর ফাঁকির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকিং বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কোনো বিষয়ে আইনি মতামত প্রয়োজন হলে আইন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এনবিআরকে। তবে কবে কখন কিভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ব্রিফিংয়ে জানান, ওয়েজ আর্নার হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আয়কর সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেয় এনবিআর। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. ইউনূস একজন সরকারি কর্মকর্তা বা পাবলিক সার্ভেন্ট। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিদেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় বা ডলারে সম্মানী গ্রহণ করেন। একইভাবে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার এবং ১৩টি বইয়ের রয়্যালটি পেয়েছেন। এভাবে সব মিলিয়ে তিনি আয় করেছেন ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৮ টাকা। তিনি করমুক্ত আয় দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৭ টাকা। প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার আবশ্যকতা রয়েছে। কিন্তু তিনি যেভাবে আয় করেছেন ও আয়কর অব্যাহতির সুবিধা নিয়েছেন, তা বিধিসম্মত হয়নি। তিনি আয়কর দাখিল করা নিয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। তাকে শর্ত সাপেক্ষে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়া হয়েছিল। তাকে যারা এ সুবিধা দিয়েছেন, তারা দায়ী বলে জানান মন্ত্রিপরিষদের সচিব। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দায় এড়াতে পারেন না। ২০১২ সালের ২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদের সভায় ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ওয়েজ আর্নার হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কী পরিমাণ কর অব্যাহতি নিয়েছেন, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য এনবিআরকে নির্দেশ দেয়া হয়। এক বছর পর এনবিআর গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে সেই প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়। সেই প্রতিবেদনে শুধু ড. ইউনূসের করের তথ্য নয়, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলছে কি না, এসব বিষয়েরও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ আইন ২০১৩’র খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। অনুরূপ বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের বিষয়ে জাতীয় কৌশলপত্র অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করতে জরিপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে বৈধ এবং অবৈধভাবে ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। যাদের মধ্যে অবৈধর সংখাই বেশি। তিনি জানান, এসব রোহিঙ্গার জন্য দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিকসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, দেশে যারা বৈধ রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের জন্য সরকার মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে আগের মতই মৌল-মানবিক চাহিদা মিটিয়ে যাবে। অনুমোদিত কৌশলপত্রে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের সনাক্তকরণে দুদেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সম্পর্কের উন্নয়নে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।