হাসিনাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের রূপরেখা দিচ্ছে বিএনপি

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দল নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তিকে প্রধান করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঘোষণা দিতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, শিগগিরই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনগণের সামনে এই রূপরেখা উপস্থাপন করবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সংসদীয় ককাস ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন এমপিকে নিয়ে একটি সরকার গঠন করা হবে। একজন দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি সেটির প্রধান হবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি মনোনীত হবেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, ককাসের দেয়া রূপরেখা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে রূপরেখা দেয়া হবে এবং তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় ককাস ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক/অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ পড়েন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। সেমিনারে ককাসের পক্ষ থেকে নির্দলীয় সরকারের একটি রূপরেখা দেয়া হয়। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে প্রমোটিং ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড প্রাকটিসেস এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি নিড ও’ কনার, অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, মো. হারুনুর রশিদ, জেড আই মোস্তফা আলী মুকুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, শ্রমিক দলের জাফরুল হাসান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শাম্মী আক্তার, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলুফার ইয়াসমিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ককাসের রূপরেখা বিএনপির নয় উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ককাস অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। তবে তারা যে রূপরেখা দিয়েছে, এটা আমাদের রূপরেখা নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার ৪২ বছরেও একটি স্থায়ী নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি তৈরি করতে পারিনি। তিনি বলেন, শুধু পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করে সমস্যা সমাধান হবে না। এর জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমরা গত দুই বছরে তা করতে সক্ষম হয়েছি। একগুঁয়েমিতে নির্বাচন অনিশ্চিত সকালে মহিলা দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের একগুঁয়েমির কারণে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংলাপে বসতে সরকার ও বিরোধী দলকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দেয়া চিঠি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বিএনপি সমঝোতার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান চায়। কিন্তু সরকারই বিরোধী দলকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে উস্কানি দিচ্ছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিলকিস জাহান শিরিন, সুলতানা আহম্মেদ প্রমুখ। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক জাতীয় নির্বাচন কেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের পক্ষে, তার যৌক্তিকতা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও দাতাদের কাছে তুলে ধরলো বিএনপি। গতকাল গুলশানের একটি হোটেলে এক বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), পাকিস্তান, সুইডেন, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, শ্রীলঙ্কা, ভ্যাটিকান সিটি, যুক্তরাজ্যের উপরাষ্ট্রদূত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দূত এবং নেদারল্যান্ডস, ফিলিস্তিন, সুইজারল্যান্ড, জাপান, মরক্কো ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে লিখিত ও মৌখিকভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, রিয়াজ রহমান ও সালেহ উদ্দিন আহমেদ। রিয়াজ রহমান জানান, কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, একমাত্র নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি বিএনপি। এ সময় কূটনীতিকরা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করার জন্য বিএনপিকে আহ্বান জানান।