ঠাকুরগাঁওয়ে ঘর গোছাতে ব্যস্ত বড় দুই দল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত বড় দুই দল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা জেলার ৩টি আসনেই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দলকে পুনর্বিন্যাস, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নেয়াসহ বিগত দিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা-ইউনিয়নে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুই দলের অফিসই থাকছে সরগরম। এদিকে জেলা শহর ও গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারের চায়ের টেবিলে নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকরা প্রার্থীর পক্ষে গুণগান গাইছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কমবেশি সমালোচনাও করছেন। আর সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন লাভের জন্য দলের মধ্যে যেমন লবিং করছেন, তেমনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি এলাকায় সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করেছেন বেশ জোরেসোরেই। তারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে জেলার ৩টি আসনের সবকটিতেই মহাজোটের এমপি রয়েছেন। বিএনপি নেতারা ঠাকুরগাঁওয়ে সবকটি আসনে জয়লাভের জন্য ব্যাপকভাবে সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করলেও আওয়ামী লীগের তত্পরতা কিছুটা কম। তবে ইদানীং দলটির নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। এদিকে দুই দলের মধ্যেই কমবেশি কোন্দল থাকার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এখানে জাতীয় পার্টির (এ) তত্পরতা থাকলেও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর তেমন তত্পরতা নেই বললেই চলে। আর দলীয় অফিসের মধ্যেই তত্পরতা সীমাবদ্ধ ন্যাপ, সিপিবি, বাসদসহ অন্যান্য দলের। জেলার ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ ও ঠাকুরগাঁও-২ আওয়ামী লীগের এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে একটি করে আসন ছিল। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে সবকটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাত্র কয়েকশ’ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হয় জামায়াত। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ২ লাখ ১৫ হাজার এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ২ লাখ ৯০ হাজার। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, এই আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে জয়ী হয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তবে রমেশ চন্দ্র সেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুজনেই ঠাকুরগাঁওয়ে বিমান বন্দর চালু, রেলওয়ের আধুনিকীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের কথা বললেও আজো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মহাজোটের জাতীয় পার্টির সাথে কোন্দল একেবারে অমীমাংসিত অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। তবে বিএনপি ও জামায়াত রয়েছে দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে। এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বাবু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম (বাউ), ইন্দ্রনাথ রায়, অরুনাংশু দত্ত টিটো প্রমুখ। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টি (এ) থেকে সুলতানুল ফেরদৌস চৌধুরী, রেজাউর রাজী স্বপন চৌধুরী এবং জামায়াত থেকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মনোনয়ন পেতে পারেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনেও আওয়ামী লীগে একাধিক গ্রুপ থাকায় দলীয় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টিতেও (এ) ভাঙ্গন ধরেছে। বিএনপি-জামায়াত দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থেকে দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তবে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত টানাপোড়েন সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দবিরুল ইসলাম এমপি, হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম ফেরদৌস টগর, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু, বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা ফয়সাল আমিন, জেড মর্তুজা তুলা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ আলম, জাতীয় পার্টি (এ) থেকে কেন্দ্রীয় মহিলা পার্টির সহ-সভাপতি নুরুন নাহার বেগম এবং জামায়াত থেকে জেলা আমীর মাওলানা আ. হাকিম মনোনয়ন চাইছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের বিরোধপূর্ণ অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ইমদাদুল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম, রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক সইদুল হক, রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা, বিএনপির পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি জাহিদুর রহমান, জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দীন রোকন এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন।