না’গঞ্জ আওয়ামী লীগের বৈঠক
দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার পক্ষে রাব্বির অবস্থানের তীব্র নিন্দা
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
নারায়ণগঞ্জে ‘জামায়াত ও তাদের এজেন্টদের’ বিরুদ্ধে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকারি দলের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, ‘জামায়াতের ফান্ডে যারা এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে তাদের বিরুদ্ধে আর ডিফেন্সিভ নয়, এবার ওফেন্সিভভাবে রাজপথে নামা হবে’। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা চাষাঢ়া এলাকায় এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন।
বেসরকারি দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার দাবিতে গত ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে গণ জাগরণ মঞ্চের নেতা রফিউর রাব্বির অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দানেরও তীব্র সমালোচনা করা হয় আওয়ামী লীগের বৈঠকে। সরকারি দলের কয়েকজন নেতা তাকে জামায়াতের এজেন্ট ও নব্য রাজাকার হিসেবে আখ্যা দেন বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
আওয়ামী লীগ ছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, শুরুতেই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে গত মার্চ মাস থেকে একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে নোংরা রাজনীতি চলছে তার নেপথ্যের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দেয়া। এই ষড়যন্ত্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে কয়েকজন জামায়াতের এজেন্ট মুখোশধারী বাম নেতা ও আমাদের দলের কয়েকজন নামধারী নেতা ও একজন নেত্রী অংশ নিচ্ছেন।’
এ সময় শওকত আলী স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ সকলের সামনে তুলে ধরে বলেন, ‘রফিউর রাব্বি নিজেকে নারায়ণগঞ্জে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা দাবি করেন, অথচ তিনি যুদ্ধাপরাধীদের অর্থায়নে পরিচালিত দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার দাবিতে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করেন।’ তিনি বলেন, ‘এই দাবির মাধ্যমে রফিউর রাব্বি রাজকারদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আমরা কাল থেকে মাঠে নামবো। এখন থেকে ডিফেন্সিভ নয়, অফেন্সিভ খেলা হবে।’ বৈঠকে উপস্থিত সকলেই এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সংসদের কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, রাব্বিরা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ যদি এখন মাঠে না নামে তবে আরেকবার মুক্তিযোদ্ধারা রাব্বির মতো নব্য রাজাকার নিধনে মাঠে নামবে।
এ সময় উপস্থিত সবাই রাব্বিপন্থীদের শহীদ মিনারসহ শহরের কোথাও সমাবেশ করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন। অনেকেই শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিউনিস্ট নেতা রোকন উদ্দিনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের নাম ব্যবহারকারী এসব নেতাও জামায়াতের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এসব আর সহ্য করা হবে না।
এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাদের শান্ত করতে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার জন্য আওয়ামী লীগ করি। তাই শেষ পর্যন্ত তার নির্দেশ মতেই যা কিছু করার করবো।’