গ্রামীণ নারীদের নিখুঁত হাতের কাজের পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৮
জামালপুরের গ্রামীণ নারীদের কারুকার্যপূর্ণ নিপুণ ও নিখুঁত হাতে সেলাইয়ের তৈরি পাঞ্জাবী, চাদর, শাড়ী, থ্রীপিচ, জামা, শপিং ব্যাগ, মহিলাদের সাইড ব্যাগ, ওয়ালমেটসহ নকশি কাঁথা দেশ-বিদেশে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি শীতের শুরুতেই নকশি কাঁথার চাহিদারও কমতি নেই। দামেও বেশ সাশ্রয় একটি নকশি কাঁথা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়ে থাকে। নারী পুরুষ আবাল বৃদ্ধ সকলের চাহিদা অনুযায়ী রকমারি ডিজাইনে তৈরি পোশাক যার যতটুকু প্রয়োজন তাই পছন্দমত ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব তৈরি জিনিসপত্র এখন দেশের চাহিদার পাশাপাশি বিদেশে রফতানি হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এই নকশি কাঁথা এখন সম্ভাবনার নতুন "্বার উম্মোচন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের রূপ নিয়েছে জামালপুরে। গাঁয়ের বধূরা এখন ঘরে বসে নেই, তারা এখন নিখুঁত হাতের সেলাই করে রকমারি ডিজাইনের পোশাক তৈরির পাশাপাশি নকশিকাঁথা বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করে খুচরা ও পাইকারী বিক্রয় করে আসছেন। জেলা বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে এলাকার দরিদ্র, মধ্যবিত্ত এমনকি অর্ধ শিক্ষত সুশিক্ষিত মহিলারা কারুশিল্পকে পেশা হিসেবে অনেকেই বেছে নিয়েছেন। মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রথম সীমিত আকারে আশির দশকে এ কারুশিল্প শুরু হয়।
বর্তমানে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসার চিত্রটি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এ কারুশিল্পকে ঘিরে জামালপুর জেলার সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় প্রায় সাডে ৪ শতাধিক নারী উদ্যোক্তা। কারুকাজকে ঘিরে এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জামালপুরের কারুশিল্পের উন্নয়নে এবং নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সচ্ছলতা জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নির্দেশে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া চালু করে। অনেক উদ্যোক্তা মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। নারী উদ্যোক্তাদের প্রধান সাহিদা আক্তার জানান, কারু ও কুটির শিল্পের প্রতি সরকারে বিশেষ নজর দিয়ে ঋণ প্রদান অব্যাহত থাকলে মোটা অঙ্কের পুিঁজ বিনিয়োগের মাধ্যমে ঘরে বসেই এখন দেশ-বিদেশে ব্যবসা চালিয়ে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।