কী করে এলো

আবেগ অনুভূতি আটকে রাখা ভালো নয়

আধুনিক এই সময়কে অনেকেই বলেন চাপা হাসি আর মাপা কান্নার সময়। এখানে লোক-লৌকিকতার ভয়ে আমরা হাসি? এলেও প্রাণ খুলে হাসি না। একইভাবে লুকিয়ে রাখি কান্নার মতো অনেক আবেগ আর অনুভূতিকেও। কিন্তু প্রকৃতির এই স্বাভাবিকতা আর আবেগ-অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি যে চূড়ান্ত বিচারে আমাদের দেহমনের জন্য ভালো নয় এবার সেটাই মনে করিয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ ও ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টারের একদল বিশেষজ্ঞ। এদের দাবি, আবেগ বা অনুভূতিকে চেপে রাখতে চাইলে বাড়ে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি। সেই সাথে বাড়ে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতি রোগের সম্ভাবনাও। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই গবেষকরা জানিয়েছেন, আবেগের অবদমনের ফলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর এভাবে যারা অকালমৃত্যু বরণ করেন তাদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় শতকরা ৭০ ভাগ বেশি এবং হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা শতকরা ৪৭ ভাগ পর্যন্ত বেশি। আলোচিত এই গবেষণা জরিপের অংশ হিসেবে গবেষকরা সবমিলিয়ে ৭৯৬ জন নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন যাদের গড় বয়স ছিল ৪৪। এক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু বিষয়ে প্রথমবার তথ্য সংগ্রহের ১২ বছর পর তাদের কাছে পুনরায় একই ধরনের কিছু প্রশ্ন করা হয়। এ সময় দেখা যায় যে ইতোপূর্বে যাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১১১ জনের এর মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে এবং এদের অধিকাংশই মারা গেছেন ক্যান্সার বা হূদরোগে। উল্লেখ্য, এর আগে অপর কিছু গবেষণায় গবেষকরা আবেগ অনুভূতি দমিয়ে রাখার সাথে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা মানসিক রোগের সম্পর্কের কথা জানালেও এবারই প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতি বিভিন্ন রোগের সাথে এই বিষয়টির সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি তথ্য প্রকাশ করলেন গবেষকরা।