গ বে ষ ণা

ঔষধি গাছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ!

মো. আবু সাঈদ। বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম এ ফেলোশিপ নিয়ে একটি গবেষণা করে দেশে ফিরেছেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল- ‘গর্ভধারণকালীন মায়েদের ডায়াবেটিক সমস্যা এবং তা কমানোর উপায়’। বর্তমানে আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বেও রোগীরা সাধারণত দুই প্রকার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যার প্রথমটি টাইপ-১, দ্বিতীয়টি টাইপ-২। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের এক প্রকার ডায়াবেটিস হয়ে থাকে যাকে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বলে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড়ে ৭ শতাংশ মায়েরা গর্ভধারণকালীন এই জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হন। যা মায়ের রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং গঠনেও ব্যাঘাত ঘটায়। শিশুটি অপুষ্টিতেও ভুগে। যার ফলে মা ও শিশুর ভবিষ্যতে হূদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, ডায়াবেটিসযুক্ত মায়ের চেয়ে স্বাভাবিক মায়ের শরীরে অনেক বেশি কেভিওলিন নামক প্রোটিন এবং এন্ডোথেলিয়াল নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেজ নামক এনজাইম থাকে যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। ফলশ্রুতিতে রক্তনালী প্রসারিত করে রক্ত চলাচল সহজ করে। গবেষণার এই ফল জানান দেয়, ডায়াবেটিস মায়েদের নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির ক্ষমতা কমে যাবার পাশাপাশি সেইসব মায়েদের অনেক ঝুঁকি থাকে গর্ভকালীন একলেমশিয়া নামক গুরুতর রোগ হবার। যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। আবু সাঈদের এই গবেষণার ফলে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর যে তিনি পুনরায় ডায়াবেটিস নিয়ে উনার রিসার্চ সুপারভাইজার ড. লোপা লিচ এর সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। তিনি বিভিন্ন ঔষুধি গাছ দিয়ে কিভাবে ডায়াবেটিস এবং হূদরোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করার কথা জানান। যা বাংলাদেশের ৭০ লক্ষ রোগীকে নতুনভাবে শেখাবে তাদের ডায়াবেটিস প্রতিরোধের এবং গর্ভবতী মায়েদের একলেমশিয়া, ক্যান্সার ও হূদরোগের মত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো সম্ভব। গবেষণার জন্য তিনি জাপান সরকার প্রদত্ত মনবুশো স্কলারশিপ পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে এগ্রিকালচার-এ স্নাতক ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৮০ এবং ৩.৯২ (৪ এর মধ্যে) পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সাঈদ ভবিষ্যতে কৃষি ও টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে আরও গবেষণা করতে চান।