এই রায় মানি না
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
লাল বেনারসী পরা আর হলো না ফেলানির। প্রতিটি বাঙালি নারীর বিয়ের কনে সাজার যে সাধ তাও পূরণ হলো না বোন ফেলানির। রক্তের ফোঁটা জমাট বেঁধেছে, ঝুলছে লাশ সীমান্তের কাঁটাতারে। বিবেক-মানবতাকে তোয়াক্কা না করে এ যেন বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখলো! ফেলানি এখন বাংলাদেশ সীমান্তের এক অতন্দ্র প্রহরী। যার মৃত্যু ভাবিয়ে তুলেছে দেশকে, জাতিকে এবং সারা বিশ্বকে। যে মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। ওরা অপরাধী, ওদের ক্ষমা করা মানে দেশের সঙ্গে প্রতারণা করা। আজ হতাশা দানা বেঁধেছে বুকে। আমার বোনের হত্যাকারী পেলো মুক্তি! স্বাধীনভাবে ঘুরবে এই ধরত্রীর বুকে আর আমার বোন ফেলানি রক্ত দিয়ে অসহায় ঘুমিয়ে আছে জননী জন্মভূমির বুকে। এ কেমন বিচার?
আমাদের সবচেয়ে বন্ধু ও প্রতিবেশী দেশ হলো ভারত। কিন্তু কতটুকু বন্ধুপ্রবণ তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। অস্বীকার করবো না ভারত আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। সব দিক থেকে ওরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাই বলে এই নয় যে যা মন চায় তা করবে? সীমান্ত সংঘাত নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর রিপোর্টে বলা হয়, ২০১১ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে ৩১ জন মারা গেলেও ২০১২ সালে নিহতের সংখ্যা ৩৮ জন। ২০০৯ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৮ জন এবং ২০১০ সালে এ সংখ্যা কমে ৭৮ জন হয়েছিল। আর প্রতিদিন অসংখ্য বাংলাদেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আরো এক পরিসংখ্যান মতে, ২০০০ থেকে ১৪ আগস্ট ২০১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১১৩৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।
ফেলানির হত্যা একটি ঠান্ডা মাথার খুন। এ ধরনের খুনের সর্বনিম্ন নয়, সর্বোচ্চ সাজাই কাম্য ছিল। কিন্তু বাস্তবে যে রায় দেখা গেলো মনে হলো এরা এই অপকর্মের জন্য বিএসএফকেই উত্সাহিত করলো। বিএসএফ পরবর্তী সময়ে এর চেয়ে জঘন্যতম ঘটনা ঘটাতেও কুণ্ঠিত হবে না। বাংলাদেশ সরকারকে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি—প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় কামনা করুন।
চট্টগ্রাম কলেজ