আবার সেই নাফিস ইকবাল!
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৭
২০০৩ সালের কথা। দারুণ সাড়া জাগানো বাহাতি স্পিনার অ্যাশলি জাইলসকে দলে নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই জাইলসকেই মূলত ছন্নছাড়া করে দিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ফেললো বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এক অনভিষিক্ত তরুণ। শুধু জাইলসকে ব্যাটে আক্রমণ করা নয়, ম্যাচ শেষে ইংলিশ সাংবাদিকদের হাসি হাসি মুখে সেই তরুণ বলে দিল—অ্যাশলি জাইলস তার আশানুরূপ ভালো বোলার বলে মনে হয়নি, সে আসলে একজন অর্ডিনারি স্পিনার!
এই একটা কথায় ইংলিশ মিডিয়া দুটো সিদ্ধান্ত টেনে দিয়েছিল—বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে এক অমিত সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যানকে এবং জাইলসের ক্যারিয়ার দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে!
দুটোই একরকম সত্যি হয়েছিল। জাইলস বছর দুয়েকের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে হারিয়েই গেছেন। আর বাংলাদেশও পেয়ে গিয়েছিল অসাধারণ এক ওপেনারকে; সেদিনের সেই তরুণ নাফিস ইকবাল খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি করে নিজের উচ্চতার প্রমাণও রেখেছিলেন নাফিস ইকবাল। কিন্তু সময়ের কী ফের! এক ইনজুরিতে পড়ে সেই নাফিস ইকবালও কেমন যেন হারিয়ে যেতে বসলেন। ইনজুরির পর ইনজুরি এবং ফিটনেসের সঙ্গে লড়াই করে কিছুতেই যেন নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে গতকাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শুরুর দিনটাতেই ব্যাট হাতে অতিমানবিক এক ইনিংস খেলে যেন ঘোষণা করে দিলেন, আবার আসছেন নাফিস ইকবাল!
১৪০ বলে ২১টি চার আর একটি ছক্কায় সাজানো ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর একজন ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে আর বলে দিতে হয় না যে, ফর্মে কতোটা ফিরেছেন তিনি। তবে এবার আর সেই জাইলস কাণ্ডের মতো কিছু করবেন না নাফিস। এবার মুখে কিছু বলতে রাজীই নন। জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু সেটাকেই মাথায় নিয়ে খেলতে রাজী নন, ‘আমার বয়স এখন ২৮; জাতীয় দলে আবার খেলবো, এই স্বপ্ন তো দেখিই। কিন্তু সবসময় এটা ভেবে ব্যাটিং করা চলে না। আসলে আমার কাজ হল নিজের মতো করে ব্যাটিং করে যাওয়া। আমি সেটা করতে পারলে পুরস্কার এমনিতেই আসবে।’ এই পরিণত চিন্তার নাফিস ইকবালকে ধারাবাহিক রানে দেখতে পারলে বাংলাদেশেরই সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা। আর নাফিস নিজেই বুঝতে পারছেন, এখন এই ধারাবাহিকতাটার কোনো বিকল্প নেই, ‘আমি বলছি না যে, প্রতি ম্যাচেই ১৫০ রানের ইনিংস খেলবো; সেটা সম্ভবও না। এরকম ইনিংস আসলে একেবারে নিজের একটা দিনে খেলা সম্ভব। এ দিনটা তাই ছিল। তবে আমার লক্ষ্য হল, ধারাবাহিকভাবে রান করে যাওয়া। সেটা করতে যা পরিশ্রম করতে হয়, আমি করবো।’
এই পরিশ্রম করাটাকেই এখন জীবনের মন্ত্র হিসেবে নিয়েছেন নাফিস। মাঝে ফিটনেস আর ইনজুরি মিলিয়ে ক্যারিয়ার-জীবন সম্পর্কে হতাশও হয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকে এই পরিশ্রমের মন্ত্রটা কিভাবে পেলেন, তাও বললেন, ‘আমাকে একদিন আমার স্ত্রী কথাটা বলেছিল—ফল কী হবে ভেবো না, তুমি পরিশ্রম করে যাও। আমি সেই থেকে নিজের ফিটনেস বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। হ্যা, এখনও কিছুটা ঘাটতি হয়তো আছে। তবে আমি আশাবাদী যে, খুব দ্রুত আমি আমার সেরা অবস্থায় পৌঁছে যাবো।’
সেটা নাফিসের চেয়েও আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি হবে।