সাফ ফাইনাল আজ
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল কাঠমান্ডু নেপাল থেকে
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৪
নেপালের আকাশে তখন কড়া রৌদ। দশরথের মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যম। মাঠের মাঝখানে কিকঅফ স্পটে টেবিলের উপর রাখা সাফের ট্রফি রোদের আলো পড়ে চিকচিক করছিল। একপাশে ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী আর অন্যদিকে আফগানিস্তানের অধিনায়ক হারুন ফখরুদ্দিন। আজ বুধবার সন্ধ্যা পৌঁনে সাতটায় দশরথের মাঠে সাফের ফাইনালে নামার আগে দুই দলের অধিনায়ক ফটো সেশন করছিলেন। অথচ এই দুই অধিনায়ক সাফ শুরুর আগে সব দলের ফটো সেশনেই আসেননি। অথচ তারাই আজ ফাইনালে। জিতলে ভারত পাবে হ্যাট্রিক শিরোপা। বিপরীত কিছু হলে স্বপ্ন পূরণ হবে আফগানিস্তানের।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ১-০ গোলে মালদ্বীপকে সেমিফাইনালে হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে গতবারের রানার্স আপ আফগানিস্তান শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিক নেপালকে একই ব্যবধানে হারিয়ে দর্শক আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এ কারণে ফাইনালের দুই অতিথি দল ভারত ও আফগানিস্তানকে নিয়ে নেপালের ফুটবল অঙ্গনে তেমন একটা আলোচনা নেই। কেউ আগাম টিকিট খুঁজছে না। তবে কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত সংবাদ মাধ্যমের ধারণা ভারতই চ্যাম্পিয়ন হবে। কারণ ভালো না খেললেও তাদের ভাগ্যের চাকা জোরে সোরেই ঘুরছে। ভাগ্যের উপর ভর করে এগিয়ে গেছে। সাথে ছিল রেফারির নেকনজর।
আফগানিস্তানের সহকারি কোচ আলী জাওয়াদ আতওই এটিকে ভালোভাবে দেখছেন না। দলটির মূল কোচ ইউসুফ কার্জার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে না এসে পাঠিয়েছেন তার সহকারি আতওইকে। তিনি রাকঢাক না করে বলেই ফেলেন, ‘ফাইনালে রেফারির ভূমিকা নিয়ে আমি শংকিত।’ আফগানদের শংকিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। ভারত যেভাবে একটা করে ম্যাচ অতিক্রম করে ফাইনালে উঠেছে তাতে রেফারিরা সমালোচিত হয়েছেন। সেমিফাইনালে মালদ্বীপের অধিনায়ক আলী আশফাককে আটকাতে গিয়ে ভারতের ফুটবলাররা ২১ বার ফাউল করেছেন। আশফাক এরপরও নীরবে খেলে যান কিন্তু রেফারি খুব বেশি সরব ছিলেন না। আশফাকের জার্সি টেনে ফেলে দিলে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিতে হলো। তারপরও জর্ডানের রেফারি কিছুই দেখলেন না। আফগানিস্তানের সহকারি কোচ আলী জাওয়াদ এই বিষয়কে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘ফাইনালে রেফারি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে আমাদের জেতার সম্ভাবনাই বেশি।’
দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সাফের আগের আসরেই আফগানিস্তান ও ভারত মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরে সাফ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়। আবার আফগানরা ফাইনালে ভারতেকে পেয়েছে। তাদের নতুন করে জেগে উঠার স্বপ্ন। যুদ্ধে যে দেশ রক্তাক্ত সেদেশের ক্রীড়াবিদরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর আলিম্পিকে পদক জয় করে তাক লাগিয়েছে। তাহলে সে দেশের ক্রীড়াবিদরা কেন সাফে সেরা অর্জন তুলে আনতে পারবে না। ফুটবলারদের উজ্জীবিত করার জন্য ফাইনালের আগে এমন মন্ত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে আফগানদের মাঝে। একদিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য আরেক দিকে প্রতিশোধের নেশায় ছুটফট করছেন আফগানরা; অন্তত তাদের কথায় সেরকম আভাসই পাওয়া গেল। আফগানিস্তানের সহকারি কোচ বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এটা প্রতিশোধের মিশন। ভালো খেলেই আমরা শিরোপা জিততে চাই।’
ফুটবল যুদ্ধে ভারতের সাথে আফগানিস্তানের দ্বৈরথ অনেক পুরনো। ইতিহাস ঘেটে জানা গিয়েছে ১৯৫১ সালে দিল্লীতে প্রথমবার ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। প্রথম সাক্ষাতে ভারত ৩-০ গোলে জিতেছিল। এরপর অনেক সময় গড়িয়েছে। মাঝে গৃহযুদ্ধের কারণে আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছিল ফিফা। আফগানিস্তান এবং ভারত এ পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে ভারতের জয়ের সংখ্যা চারটি। আর ড্র একটি। সেটা ছিল গত দিল্লী সাফে গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র হলেও উভয় দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়। পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে শক্তিশালী মনে করলেও আফগানরা বলছে তাদের হারানোর মতো সাহস, মনোবল, শারীরিক ও মানিসক শক্তি আছে খেলোয়াড়দের। সহকারি কোচ বলেছেন, ‘আমাদের ফুটবলাররা ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থায় আছেন।’
আফগান কোচের কথা আমলেই নেননি ভারতের ডাচ কোচ উইন কোভারম্যানস। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আফগানিস্তানের কোচ তার দল নিয়ে কি বলেছেন তা আমি জানি না। সেমিফাইনালে আমরা প্রমাণ দিয়েছি। ভারত শক্তিশালী দল আমি এটাই বুঝি। ফাইনালের গুরুত্ব আমাদের কাছে অন্যরকম।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটা কঠিন ম্যাচ হবে।’