শ্রীপুরে সালিশে বিয়ে বিচ্ছেদ, স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যা

আমি জীবন দিয়ে জুয়েলের ভালবাসার দাম দিলাম। সে যেন আমার লাশ না দেখে। শেষ চিঠিতে এমন আকুতি প্রকাশ করে আত্মহত্যা করলেন শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষিকা পারুল আক্তার (২১)। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ ঘরের ধনার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। নিহত পারুলের পালিত পিতা নিজাম উদ্দিন জানান, দুই বছর বয়সে কপাটিয়া পাড়া গ্রামের সূর্যত আলীর কাছ থেকে দত্তক হিসাবে এনে সন্তান স্নেহে বড় করি। একই গ্রামের মাহাবুব আলমের পুত্র জুয়েলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ায় গত দুই বছর পূর্বে তাকে বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকেই একটি মোটর সাইকেলের জন্য চাপ দেয়া শুরু করে পারুলের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি। দিতে পারিনি বলে স্বামীর সংসারে জায়গা হয়নি আমার মেয়ের। কন্যা আমার বাড়িতে থেকেই শিক্ষকতা করতো। বার বার যৌতুক দাবি করায় সমপ্রতি যৌতুক আইনে স্বামী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে পারুল। এতে যৌতুক লোভী স্বামী পারুলকে তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও জানান, গত রবিবার রাতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার তাজুল ইসলাম ও সাহাব উদ্দিনকে হাত করে গাজীপুর বাজারে এক অ্যাডভোকেটের চেম্বারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় রফাদফা করে পারুলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাক রেজিস্ট্রি করা হয়। নিহতের ভাই জিন্নাত জানান, চাপের মুখে বাধ্য হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পারুল তালাক নামায় স্বাক্ষর করে। সোমবার বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ইউপি মেম্বার তাজুল ইসলাম জানান, মামলা আপোষের স্বার্থে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।