স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ফন্টেরার গুঁড়া দুধ পরীক্ষার আহ্বান
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরার সরবরাহ করা ৬শ টন গুঁড়া দুধ পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে কঞ্জুমারর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। আমদানি করা এই গুঁড়া দুধ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেলাল হোসেন বলেন, গত ৩ আগস্ট ফন্টেরা কোম্পানি তাদের দুগ্ধজাতীয় পণ্যসামগ্রীতে ক্লসট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামে জীবাণুর অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে। পরে চীন সরকার নিউজিল্যান্ড থেকে সব ধরনের গুঁড়া দুধ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের পরীক্ষায় ফন্টেরার দুইটি গুঁড়া দুধের ব্যাচে ডাইসায়ানডাই অ্যামাইড কেমিক্যালের অস্তিত্ব পেয়েছে। ফলে দেশটির আদালত গত ২১ আগস্ট ফন্টেরার গুঁড়া দুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ গুঁড়া দুধের ঘাটতি মেটাতে সিংহ ভাগই নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানি করে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বাংলাদেশে ফন্টেরা থেকে প্রায় ২১ হাজার টন গুঁড়া দুধ আমদানি করা হয়। দেশের বিভিন্ন কোম্পানি এ গুঁড়া দুধ থেকেই কন্ডেন্সড মিল্ক, বিস্কুট, দই এবং মিষ্টি জাতীয় পণ্য উত্পাদন করে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. বেলাল বলেন, ক্লসট্রিডিয়াম বটুলিনাম ব্যাকটেরিয়া মানব শরীরে বটুলিজম রোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে বিতৃষ্ণা, বমিভাব, ডায়রিয়া, প্যারালাইসিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত খাবার খেলে ১২ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, প্যারালাইসিস এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ফন্টেরা কোম্পানির গুঁড়া দুধের মান নিশ্চিত না হয়ে খালাস না করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ প্রসঙ্গে গতকাল সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, বিএসটিআই-এর পরীক্ষাগার এই পরীক্ষার জন্য উপযোগী নয়। তাই আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ , বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মাইক্রো-বায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।