হামলা এড়াতে রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তরে রাজি সিরিয়া

মার্কিন সাামরিক অভিযান এড়াতে সিরিয়ার সরকার রাশিয়ার প্রস্তাব মেনে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সে পদক্ষেপের ব্যাপারে একমত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সিরিয়া এটা গ্রহণ করেছেন কারণ এটা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ করবে।’ এর আগে রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে সিরিয়ার অস্ত্র রাখার বিষয়ে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে কাজ করছে। রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় সিরিয়া । ইরান এবং চীনও গতকাল রাশিয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করে এবং স্বাগত জানায়। তবে ইসরায়েল এ পরিকল্পনায় খুশি হতে পারেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিমন পেরেস সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, এ আলোচনা করা কঠিন হবে। আর সিরিয়া এর যোগ্য নয়।’ লাভরভ গতকাল জানান, মস্কো সিরিয়ার সাথে আলোচনা করে ঠিক করছে কিভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তিনি বলেন, এরপর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে রাশিয়া পরামর্শ করবে। সুর নরম করলেন ওবামা : এদিকে, এতদিন হামলার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অনড় থাকলেও সোমবার তিনি বলেছেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তাব ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশটির ওপর মার্কিন হামলা এড়ানো যেতে পারে। তিনি সোমবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, প্রস্তাবটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন তিনি এবং এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হলে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত হতে পারে। অবশ্য একইসঙ্গে তিনি প্রস্তাবটিকে হামলা ঠেকানোর ‘কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করার ব্যাপারে দামেস্ককে সতর্ক করে দিয়েছেন। ওবামা বলেন, তিনি এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছার জন্য রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে আলাপ করবেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রস্তাবে সিরিয়া সংকটের হয়তো রাতারাতি সমাধান হবে না। কিন্তু এ মুহুর্তে যে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সবকিছু অগ্রসর হচ্ছিল সেটিকে হয়তো এড়ানো যাবে। কেরির হুঁশিয়ারি : যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সুর নরম করলেও সতর্ক করে বলেছে এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র বিলম্ব সহ্য করা হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল বলেন, জাতিসংঘ যদি রাশিয়ার প্রস্তাব কার্যকর করতে চায় তবে প্রতিষ্ঠানটি যেন ডিবেটিং সোসাইটি হিসেবে কাজ না করে। তিনি বলেন, দ্রুত কাজ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামা পুরো বিষয়টার উপর নজর রাখবেন। মার্কিন কংগ্রেসকে ওবামার পাশে দাঁড়াতে তিনি আহ্বান জানান। ফ্রান্সের উদ্যোগ : সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের জন্য সেগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণাধীনে আনতে ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তবনা পেশ করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাবিউস। সিরিয়া শর্ত না মানলে ‘অত্যন্ত মারাত্মক’ পরিণতি ভোগ করার হুমকি প্রস্তাবনায় থাকবে বলে মঙ্গলবার জানান তিনি। জাতিসংঘ সনদের চ্যাপ্টার-৭ এর আওতায় প্রস্তবনাটি উত্থাপন করা হবে বলে জানান ফ্যাবিউস। এ অনুচ্ছেদে শান্তি ফেরাতে সম্ভাব্য সামরিক কিংবা বেসামরিক দু’ধরনের ব্যবস্থার কথাই উল্লেখ রয়েছে।