বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা!
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর কর্মকর্তাদের একাংশ সবসময় বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি মাসে গড়ে এক ডজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ‘স্টাডি ট্যুর’সহ নানা কারণে বিদেশে অবস্থান করেন। চলতি সপ্তাহেও অন্তত সাত জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিদেশে গেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে কর্মকর্তাদের এই ‘বিদেশ বিলাসিতা’র ফলে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বিভিন্ন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল মাসের পর মাস অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত এসব কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণকে অফিসের স্বার্থে অত্যাবশ্যকীয় কাজ বলে মনে করেন। আর সে কারণে প্রতিমাসে ঘুরেফিরে ১০ থেকে ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুই পরিচালক ঘন ঘন বিদেশ যাওয়ায় তাদের ‘সেঞ্চুরিয়ান’ হিসেবে উপাধিও দেয়া হয়েছে। আবার এক শ্রেণীর কর্মকর্তা দেশে ফিরেই আবার বিদেশ যাওয়ার ধান্দা-ফিকির করতে থাকেন। তারা এনিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে আসতে মাসের পর মাস লেগে যায়। আর এর প্রভাব পড়ে দফতরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রোগীদের চিকিত্সা সেবার উপর। অথচ এর দায় বর্তায় স্থানীয় প্রশাসনের উপর।
মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক গত ৮ সেপ্টেম্বর দিল্লী গেছেন। তিনি ফিরবেন ১৪ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। সঙ্গে তার পিএসও রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২ এর প্রকল্প পরিচালক ডা. বায়োজিদ খুরশিদ রিয়াজ, গ্লোবাল ফান্ডের কনসালটেন্ট ডা. নাজমুল হক বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা ও পরিচালক (প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা) ডা. মুসা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
ভুক্তভোগী দেশের সাতটি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ ইত্তেফাককে জানান, চিকিত্সা-শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রমের ফাইল অনুমোদনের জন্য মাসে ৮/১০ বার মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে ধর্না দিতে হয়। সেখানে গিয়ে কোন কোন কর্মকর্তাকে সারামাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা চড়ুই পাখির মত ফুড়ত ফুড়ত করে দেশে আসেন আর বিদেশে যান। ওই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণেই হাসপাতালে জনবল নিয়োগ, ওষুধ সামগ্রীসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী পেতে বিপাকে পড়তে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, অধিদফতরে এমন কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার বাসার কাঁচাবাজার, স্ত্রীর জন্য গহনাসহ নানা উপহার সামগ্রী সরবরাহ করে বিদেশ সফরসহ বিভিন্ন সুযোগের ধান্দায় ব্যস্ত থাকেন। তবে তারা বলেন, ওই সকল বিদেশ গমনকারি ধান্দাবাজ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এজন্য সরকার জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক দুটি পুরস্কার অর্জন করেছে। এটা নিষ্ঠাবান, সত্ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সমন্বিত পরিশ্রমেরই ফল বলে তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে কে কতবার বিদেশ গেল, না গেল সে বিষয়ে কোন মতামত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কারণেই দেশ-বিদেশে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রশংসিত হয়েছে। স্বয়ং সোনিয়া গান্ধী পর্যন্ত বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে শিখতে হবে।