গোলাম মাওলা রনির জামিন :কারামুক্তিতে বাধা নেই
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৩
সাংবাদিক পেটানোসহ পৃথক তিনটি মামলায় পটুয়াখালী-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি কাশিফা হোসেনকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীর জামিন মঞ্জুর করা হলো। তার কারা মুক্তিতে আর কোন আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রনির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বেসরকারি চ্যানেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অপরাধ অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এর প্রতিবেদক ইমতিয়াজ মোমিন ও ভিডিও চিত্রগ্রাহক মহসীন মুকুলকে বেধড়ক পেটান রনি ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ওইদিন টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ রনির বিরুদ্ধে নগরীর শাহবাগ থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। পরদিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান রনি। এদিকে জামিন পাওয়ার পর মামলার বাদিকে হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগে রনির বিরুদ্ধে জিডি করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। পরে হুমকির ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ আদালতে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে গত ২৪ জুলাই জামিন বাতিল করে রনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর ওইদিন ডিবি পুলিশ রনিকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে হাজির করলে রনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাবন্দী থাকাবস্থায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়েও পাননি রনি। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
তিনটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন রনি। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানিতে রনির আইনজীবীরা বলেন, একটি জিডির ভিত্তিতে পুলিশের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রনির জামিন বাতিল করে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। কারণ বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে কিভাবে হুমকি দেয়া হলো সেটা বের করে আনা সম্ভব। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদনে এই অভিযোগের সপক্ষে কোন তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়নি।
চাঁদাবাজি ও সমাবেশে হামলার মামলার জামিন শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, এই দুটি মামলা দায়েরের সময় রনি কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। এছাড়া ঘটনার সংঘটনকাল হলো কয়েক বছর পূর্বের। রনিকে হয়রানির জন্যই এসব মামলা করা হয়েছে। তারা বলেন, রনি একজন সংসদ সদস্য। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশন বসবে। তিনি সংসদে যোগ দেবেন এজন্য তার জামিন হওয়া উচিত।