ইইউ সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন চায়
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৬
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে সমঝোতার ভিত্তিতে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় । ইইউ মনে করে, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে পারবে। গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখতে এবং স্থিতিশীল রাখতে নির্বাচন প্রয়োজন। গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে তা এদেশের জন্য শুভ হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সমন্বয়কারী ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না।
উইলিয়াম হান্না বলেন, আমরা সংলাপকে সমর্থন জানাই এবং উত্সাহিত করি। আমরা দুই দলকেই সংলাপের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তবে সংলাপ কি ধরনের হবে বা বিষয়বস্তু কি হবে তা আমরা বলবো না। রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করতে পারবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখতে এবং স্থিতিশীল রাখতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যেন কোনো সংশয় না থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা একটা রিপোর্ট জমা দেবো। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে আমরা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবো কিনা।
উইলিয়াম হান্না বলেন, আমরা আলাপ-আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসন করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। বিএনপিকে বলেছি, সংকট নিরসনের একমাত্র পথই হচ্ছে, আলাপ-আলোচনা বা সংলাপ। এর মাধ্যমেই চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে নেতৃত্বদানকারী স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, পূর্ববর্তী যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, আমরা সেটাই ফিরিয়ে দিতে হবে এমন কথা বলছি না। তবে বর্তমানে দেশের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তাতে নিরপেক্ষ সরকার দরকার, তা যে রূপেই হোক। কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না আমরা। তিনি বলেন, আমরা আলোচনার জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে দেশে যে সংকটি সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান প্রয়োজন। আমরা আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করতে চাই।
তিনি বলেন, সেই সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কাদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে সিলেক্ট করা হবে। তাদের মেয়াদ কতদিন হবে। নির্বাচন না হলে তারা কতদিন থাকবে। সমস্ত কিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সংসদে গিয়ে আলোচনা করবো না। তবে নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা কি হওয়া উচিত সেটা আমরা বারবার বলে এসেছি। এখন সরকারেরই দায়িত্ব, নিরপেক্ষ সরকার বাস্তবায়ন করে তার অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা। এক প্রশ্নের জবাবে এমকে আনোয়ার বলেন, সংসদ আলোচনার জায়গা নয়, বিতর্কের জায়গা। আলোচনা বাইরে হতে পারে। তবে সেই আলোচনায় যা আসবে, সেটি পাস করার ক্ষেত্রে সংসদের প্রয়োজন হবে। কারণ, সংসদে আগেই ভোটাভুটি হলে আওয়ামী লীগের পক্ষেই সিদ্ধান্ত যাবে, কারণ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
বৈঠকে ইইউ’র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মিস্টার বেন্জ, মুয়ালা চিলাক্রি, ক্রিস্টিনা অ্যালভেস, টম বিল, পেড্রো অ্যালমিডা ও মিস্টার প্যাটজেল্ট।
বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এম কে আনোয়ার, ড.আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমশের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল হালীম, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশিদ, বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ।