ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে ৯৯ জনকে অভিযুক্তের তালিকায় এনেছেন পদবঞ্চিতরা। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই হত্যাচেষ্টা ও মাদক মামলার আসামি, ইয়াবাসেবী ও ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, বিবাহিতসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন পদবঞ্চিতরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন বর্তমান কমিটির পদবঞ্চিত ও গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু।
লিখিত বক্তব্যে সাইফ বাবু অভিযোগ করেন, কমিটিতে শতাধিক বিতর্কিত হওয়ার পরও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাত্র ১৭ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবো, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো সকলকে খুঁজে বের করে সংগঠন থেকে বিতাড়ন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হতে পারে না। এরা ছাত্রলীগের টিউমার, যা একসময়ে ক্যান্সারে পরিণত হবে। তাদেরকে ছাত্রলীগ থেকে বিতাড়ন করতে হবে। কারণ, ছাত্রলীগ আদর্শের সংগঠন, অপকর্মকারীদের অভয়ারণ্য নয়। একই সঙ্গে যারা গত ১৩ মে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালিয়েছে, তাদেরকেও ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, জসীম উদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীনসহ শতাধিক পদবঞ্চিত নেতা।
পদপ্রাপ্তদের মধ্যে পদবঞ্চিতরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তাদের মধ্যে আছেন, সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ২৮ জন। তারা হলেন— তানজিল ভূঁইয়া তানভীর (বয়স উত্তীর্ণ ও ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত, সম্মেলনের সময় বয়স ২৯ বছর ৬ মাস ১৭ দিন), রেজাউল করিম সুমন (চাকুরীজীবী ও মাদকাসক্ত), আরেফিন সিদ্দিক সুজন (মাদক ব্যবসায়ী, সূর্যসেন হলের তার নিজ কক্ষ ৩১৫ রুম থেকে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে মাদক উদ্ধার করা হয় এবং রুম সিলগালা করা হয়। তার পিতা মাদারীপুর এর পাঁচখোলা ইউনিয়নের জামায়াতের আমির ছিলেন), আতিকুর রহমান খান (মাদকাসক্ত ও অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিল), বরকত হোসেন হাওলাদার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত), আবু সালমান প্রধান শাওন (মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন যাবত্ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়), শাহরিয়ার কবির বিদ্যুত্ (মাদকাসক্ত ও মাদকের মামলা রয়েছে), ফুয়াদ রহমান খান (বয়স উত্তীর্ণ ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত), সাদিক খান (বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত), তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী (বিএনপি ও জামায়াত ঘেঁষা পরিবারের সন্তান), এস এম তৌফিকুল হাসান সাগর (পিতা যুদ্ধাপরাধী), তৌহিদুর রহমান হিমেল (ঠিকাদার ব্যবসা), মাহমুদুল হাসান (জামায়াত পরিবারের সন্তান), সৃজন ভূঁইয়া (চাকুরিজীবী অগ্রণী ব্যাংক), তৌহিদুর রহমান পরশ (জীবনের প্রথম পদ), কামাল খান (কোটা আন্দোলনকারী), আবু সাইদ (সাস্ট, ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার ও শিক্ষককে অপমান করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত), খালিদ হাসান নয়ন (বয়স উত্তীর্ণ ও মেডিক্যালের প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত ও ডাকাতি মামলার বর্তমান আসামি), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং ৬টি মামলার আসামি), রুহুল আমিন (সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিবাহিত), সোহানী হাসান তিথি (একাধিকবার বিবাহিত), মাহমুদুল হাসান তুষার (শিবির কর্মী), এস এম হাসান আতিক (৩৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ও বিবাহিত), সুরঞ্জন ঘোষ (বয়স উত্তীর্ণ), জিয়ান আল রশিদ (ব্যবসায়ী, গ্লোব কোম্পানির পরিচালক), সোহেল রানা (বয়স উত্তীর্ণ ও প্রথম পদ), মুনমুন নাহার বৈশাখী (বিবাহিত ও জামায়াত পরিবারের সন্তান), তরিকুল ইসলাম (চার্জশিটভুক্ত ছয়টি মামলার আসামি ও নিয়োগ বাণিজ্য প্রতারণা)।
তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন— প্রদীপ চৌধুরী (নকলের দায়ে ঢাবি থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত ও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আগুন ভাঙচুর), শাকিল ভূঁইয়া (পিতা খোকন ভূঁইয়া মাদারীপুর পৌর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক) এবং মোর্শেদুল হাসান রুপম (ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন)।
সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম (রাজাকার পরিবারের সন্তান, যৌন হয়রানিকারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত), উপ-প্রচার সম্পাদক সিজাদ আরেফিন শাওন (বিবাহিত ও সন্তান রয়েছে), উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বিন মুন্সি (কোটা আন্দোলন-এর সংগঠক , বঙ্গবন্ধু হল) উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সৌরভ নাথ (লুবনান থেকে চাঁদাবাজির দায়ে ০৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি), উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফরীন লাবনী (একাধিক বিবাহিত), উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান (বয়স উত্তীর্ণ, মাদক ব্যবসায়ী), উপ-পাঠাগার সম্পাদক রুশী চৌধুরী (বিবাহিত), ধর্ম সম্পাদক তাজউদ্দিন (শিবির-এর অর্থ সম্পাদক), উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক মনিরুজ্জামান তরুণ (প্রথম পদ), উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক সালেকুর রহমান শাকিল (প্রথম পদ), উপ-স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. শাহজালাল (প্রথম পদ ও সাবেক শিবিরকর্মী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের প্রেস রিলিজে আছে), উপ-গণযোগাযোগ সালাউদ্দিন জসিম (ওয়ারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ-এর প্রচার সম্পাদক, বিবাহিত), সুশোভন অর্ক (উপ-গণযোগাযোগ, চাকরিজীবী, বাংলাট্রিবিউন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার),আসিফ ইকবাল অনিক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক, বিবাহিত), মো. তুষার (উপ-বেসরকারি, প্রথম পদ), রাকিবুল ইসলাম সাকিব (উপ-বেসরকারি, বিবাহিত), শাহরীয়ার মাহমুদ রাজু (উপ-আপ্যায়ন, জসীমউদ্দিন হলের ৩২১নং রুম থেকে ইয়াবা সেবনকালে হল প্রোভোস্টের সহায়তায় পুলিশে সোপর্দ), হিরণ ভুঁইয়া (উপ-মানবসম্পদ, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত), এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু (কৃষি সম্পাদক, বিবাহিত), অভিমুন্য বিশ্বাস অভি (উপ-কর্মসংস্থান, ইউনানী ঔষধ ব্যবসায়ী), জাফর আহমেদ ইমন (সহ-সম্পাদক, ছাত্রদল নেতা, প্রথম পদ), তানভীর আব্দুল্লাহ (সহ-সম্পাদক, ব্যবসায়ী/প্রথম পদ)।