কথার জাদুতে
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১০
ছোটবেলাতেই মনে স্বপ্ন আঁকেন মিডিয়ায় কাজ করবেন বলে। তবে তা হতে হবে একটু ভিন্ন ধরনের কাজ। ২০০১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক’ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন ফারিয়া। এরপর ‘ডোর’ নামে ফ্যাশন হাউসের ব্র্যান্ড মডেল হন। কিছুদিন না যেতেই ডাক পড়ে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’-এর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের জন্য। পরে একের পর এক মানসম্পন্ন বেশকিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। এরমধ্যে মোবাইল কোম্পানি সিম্ফনি ও মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেল রিচার্জের বিজ্ঞাপনচিত্রে ভালো পারফর্মেন্সের জন্য আলোচনায় আসেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনায় নিজেকে জড়ান ফারিয়া। তবে উপস্থাপনা কঠিন হলেও নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে এই অঙ্গনে নিজেকে তারকার আসনে বসিয়েছেন। তার এই সাফল্যের পেছনের রহস্য কী জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন, ‘আমি প্রতিটি কাজ ভালোবেসেই করি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষকে সম্মান করি এবং সময় মেনে চলার চেষ্টা করি। এই সবকিছুর সমন্বয়েই আমার আজকের এই অবস্থানে আসা।’ বেশ কয়েক বছর থেকে তিনি উপস্থাপনা করছেন। আর সরাসরি দর্শকের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকে বলে তিনি উপস্থাপনাকে এনজয় করেন বলে জানান। একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে ফারিয়া বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে সবকিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজ করাই হলো একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ উপস্থাপনার কোন বিষয়টি আপনার ভালো লাগে? প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি উপস্থাপনা করে অনেক প্রশংসা পাই। আর তরুণদের মাঝেও ইদানীং বেশ রেসপন্স পাচ্ছি।’ একজন উপস্থাপকের কী কী গুণ থাকতে হয়? জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমেই প্রয়োজন হয় উপস্থিত বুদ্ধি। এরপর সঠিক উচ্চারণ ও প্রতিটি সেক্টরের বেসিক নলেজ থাকতে হবে একজন উপস্থাপকের।’ বর্তমানে তিনি চারটি চ্যানেলে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছেন ফারিয়া। এরমধ্যে এটিএন বাংলায় প্রতি রবিবার বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে লাইফস্টাইল বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ট্রেন্ড’, গাজী টিভিতে প্রতি শনিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে ফ্যাশন, লাইফস্টাইল অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট বিষয়ক শো ‘ওয়ার্ল্ড অব গ্ল্যামার’, এসএটিভিতে প্রতি শুক্রবার রাত ১১টায় ‘এসএ লাইভ স্টুডিও’ এবং আরটিভিতে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ‘বাংলা লায়ন মিউজিক্যাল ফেস্ট’ প্রচার হচ্ছে। এই প্রতিভাময়ী তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। তিনি পড়াশোনাতেও সব সময় প্রথম সারিতেই থাকেন। বর্তমানে বিবিএ পড়ছেন। ফারিয়া বলেন, ‘আমি মিডিয়াতে কাজ করি, এটা আমার স্বপ্ন। আর আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন আমি যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হই। তাদের স্বপ্নকে সত্যি করতেই অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও লেখাপড়ায় ঠিকমতো মনোযোগ দিচ্ছি।’ উপস্থাপক ফারিয়ার চেয়ে ব্যক্তি ফারিয়া অনেক বেশি ব্যস্ত বলে জানান তিনি। উপস্থাপনার কাজ না থাকলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়া চাই তার। সিনেমা বা নাটকে অভিনয় করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি যেহেতু স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে এসেছি। যার কারণে উপস্থাপনাই আমাকে বেশি টানে। নাটকে অভিনয় করতে চাই না।’ নিজের কাজের বিষয়ে ফারিয়া সব সময় পরিবারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নুসরাত বলেন, ‘মিডিয়ায় কাজের জন্য পরিবার থেকে সহযোগিতা পাই বলেই আজ এতদূর আসতে পেরেছি।’ উপস্থাপনা ও মডেলিংয়ের মধ্যে কোন পরিচয়টি আপনার ভালো লাগে এবং কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুটোই ভালো লাগে।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে নুসরাত ফারিয়া মৃদু হেসে বলেন, ‘আসলে স্বপ্ন তো সময়ের সাথে সাথে চেঞ্জ হয়। মডেলিং ও উপস্থাপনা চালিয়ে যাব। সেইসাথে ভালো নির্মাতা এবং ভালো চিত্রনাট্য পেলে আমার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার জন্য আরও কিছুটা সময় নিতে চাই। আরও একটু শিখে তারপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে।’