অন্য অস্কারে জোলি
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১২
সম্প্রতি হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। জনহিতকর কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই মূলত জোলিকে এ সম্মাননা দিচ্ছে অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম বার্ষিক গভর্নরস পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান থেকে আগামী ১৬ নভেম্বর জোলিকে এই বিশেষ সম্মাননা জ্যঁ হারসহল্ট হিউম্যানিটেরিয়ান পুরস্কার দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে এক টুইটার বার্তায় জোলি লিখেছেন, ‘সম্মানসূচক অস্কারের জন্য অ্যাকাডেমি আমাকে মনোনীত করায় আমি অনেক গর্বিত ও আনন্দিত। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাচ্ছি।’ অপরদিকে, অ্যাকাডেমির প্রেসিডেন্ট শেরিল বুন জানিয়েছেন, ‘নিজ নিজ অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে গভর্নরস পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর বিশেষ এ সম্মাননা পাওয়ার জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত।’ চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি জনহিতকর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্রশিল্পকে সম্মানিত করেছেন, তাদের জ্যঁ হারসহল্ট হিউম্যানিটেরিয়ান পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। এর আগে এ সম্মাননা পেয়েছেন মার্কিন টিভি ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে, ড্রিম ওয়ার্কস অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের সিইও জেফরি ক্যাটজেনবার্গ প্রমুখ।
জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কিছু কথা
১৯৮২ সালে ‘লুকিন টু গেট আউট’ চলচ্চিত্রে বাবা জন ভটের সাথে একটি শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে জোলির আবির্ভাব হয়। তবে পেশাদার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে স্বল্প বাজেটের ছবি ‘সাইবর্গ ২’ (১৯৯৩)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। তার অভিনীত প্রথম বড় মাপের ছবি ‘হ্যাকারস’ (১৯৯৫)। এ ছবিতে তিনি নামভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তাকে ‘জর্জ ওয়ালেস’ (১৯৯৭) ও ‘জিয়া’ (১৯৯৮)-এর মতো সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। নাট্য চলচ্চিত্র ‘গার্ল, ইন্টারাটেড’ (১৯৯৯)-এ অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ভিডিও গেম নায়িকা লারা ক্রাফট চরিত্র নিয়ে ‘লারা ক্রাফট :টুম্ব রেইডার’ (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয় তার তারকাখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়। মূলত এরপর থেকেই জোলি হলিউডের অন্যতম ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক-প্রাপ্ত একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তার চলচ্চিত্র-জীবনের সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সাফল্য যে দুটি চলচ্চিত্র থেকে এসেছে সেগুলো হলো অ্যাকশন-কমেডিধর্মী ‘মি. অ্যান্ড মিসেস. স্মিথ’ (২০০৫) এবং অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘কুংফু পান্ডা’ (২০০৮)।
গুণী এই শিল্পীর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে। তার মা মার্শেলিন বার্ট্রান্ড এবং বাব জন ভট উভয়েই ছিলেন পেশাদার অভিনয়শিল্পী। এ ছাড়া জোলির আত্মীয়দের ভেতরেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ছাপ সুস্পষ্ট। বাবার দিক থেকে জোলি চেকোস্লোভাকীয় ও জার্মান বংশোদ্ভুত। আর মায়ের দিক থেকে ফরাসি কানাডীয় বংশোদ্ভুত। তার মায়ের ভাষ্য অনুসারে তার মধ্যে ইরোকয় বংশের ছাপও বিদ্যমান।
ক্যারিয়ার
একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবে চৌদ্দ বছর বয়সে জোলির পেশাজীবন শুরু হয়। তিনি মডেলিং করতেন মূলত লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনে। সে সময়ে তৈরি বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে মিট লোফের (রক অ্যান্ড রোল ড্রিমস কাম থ্রু), অ্যানতোনেল্লো ভেনেডিত্তির (আলতা মারিয়া), লেনি’র (স্ট্যান্ড বাই মাই ওমেন), এবং দ্য লেমনহেডসের (ইট’স অ্যাবাউট টাইম)। ষোলো বছর বয়সে মঞ্চ থেকে তার অভিনয় জীবনের শুরু, এবং তার প্রথম চরিত্রটি ছিল একজন জার্মান প্রতাপশালীর। মূলত বাবার থেকেই জোলির অভিনয়ের হাতেখড়ি। অভিনয় শেখার জন্য তিনি তার বাবার শিখন প্রক্রিয়া লক্ষ করতেন। তিনি মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতেন, এবং আচরণ ও বাহ্যিকতায় ঠিক তাদের মতো হয়ে ওঠার চেষ্টা করতেন। সে সময় বাবার সাথে জোলির সম্পর্ক পরবর্তীকালের মতো এতটা শীতল ছিল না। তখন জোলির কাছে তারা দুজনেই হচ্ছেন ‘নাট্যজগতের রাজা-রানি’।
জানার আছে আরও কিছু
চৌদ্দ বছর বয়সে জোলি তার অভিনয় শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে একজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তখন তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালকদের মতো কালো পোশাক পরা শুরু করেন। এ ছাড়াও তিনি তার চুলের রং পরিবর্তন করে বেগুনী করেছিলেন, এবং তত্কালীন প্রেমিকের সাথে মোশিংয়ে যাওয়াও শুরু করেছিলেন। দুই বছর পর প্রেমিকের সাথে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর তিনি তার মায়ের বাড়ি থেকে কয়েক গলি দূরে অবস্থিত একটি গ্যারাজের ওপরের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেন। কিছুদিন পর তিনি আবারও অভিনয় শিক্ষায় ফিরে যান, এবং কয়েকবার সেমিস্টার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরেও শেষপর্যন্ত হাই স্কুলের গণ্ডি পার হন। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জোলির বক্তব্য, ‘আমি মূলত এখনও উল্কিওয়ালা এক বদমাশ পিচ্চি এবং আমি এমনই থাকব।’