পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে আইন যুগোপযোগী করা হবে :অর্থমন্ত্রী

বিদেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের পাশাপাশি পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থপাচার বন্ধ করতে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) কোম্পানির আদলে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। সকল আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য যথাযথভাবে স্ক্যানিং করা হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কোনো বিদেশি কোম্পানি এদেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, অর্থসচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থ পাচার মূলত ব্যাংক ও এনবিআর এই দুই জায়গার মাধ্যমে হয়। এর বাইরে বড় আকারে মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। মিথ্য্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যাংকে এলসি খোলার মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়। আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধে আমরা শতভাগ স্ক্যানারের ব্যবস্থা করবো। এছাড়া ওভার প্রাইসিং আর আন্ডার প্রাইসিং রোধে পিএসআইর আদলে এনবিআরে একটি সেল খোলা হবে। তারা নেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পণ্যের দাম জানবে। ওই দামের চেয়ে বেশি পার্থক্য দেখা গেলে সেসব পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে এর সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা আর দুর্নীতি চাই না। মানি লন্ডারিংও একটা দুর্নীতি। আর দুর্নীতির অর্থই সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয়। সুতরাং এ দুই ক্ষেত্রকেই না করতে হবে। তাই সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে কিন্তু কাউকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন করতে দেওয়া হবে না।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এ দেশে বিদেশি বেশ কিছু কোম্পানি কাজ করে। কোনো বিদেশি কোম্পানি এদেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ এককভাবে যে বিদেশি কেম্পানি কাজ করে সেখান থেকে আমরা রাজস্ব পাই না। তাই বিদেশি কোনো কোম্পানিকে কাজ করতে হলে তাদেরকে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। অন্তত আমরা যেন অর্ধেক রাজস্ব পাই।