এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তির আবেদন শেষ তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর, পরীক্ষা ৪ অক্টোবর

মহান পেশা ডাক্তারী

দ্রুত প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে এগিয়ে চলেছে বিশ্ব। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন অনেক পেশাই আসছে আমাদের সামনে। নতুন এসব পেশার চাহিদাও কম নয়। তবে সময়ের সাথে সাথে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, কিছু কিছু পেশা রয়েছে যেগুলোর কদর কখনই কমে না। এরকমই একটি পেশা হচ্ছে চিকিত্সা পেশা। এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে পারলে সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে পসার এবং উপার্জন। আবার আমাদের দেশে চাকরির পদের তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। বাস্তবতার নিরিখে তাই বাংলাদেশে প্রয়োজন বিশেষায়িত শিক্ষার। পড়ালেখা শেষ করার সাথে সাথেই কর্মজীবন শুরু করা যায়, এমন বিষয়গুলোর মধ্যেও শুরুতেই আসবে চিকিত্সা পেশার কথা। উপরের সুবিধাগুলো ছাড়াও সেবার ব্রত এই পেশাকে করে তুলেছে মহান। ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে যারা এই মহান পেশাকে বেছে নিতে চান, তাদের সামনে সুযোগটা এখনই। কারণ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তাই বসে না থেকে আবেদন করে ফেরতে হবে এখনই। পরিকল্পনা নিজেকে যদি ভবিষ্যতে একজন সফল চিকিত্সক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগেই। মূলত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রকৃত সময়। কেননা উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকেই চিকিত্সক হিসেবে শিক্ষা অর্জন করার লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। চিকিত্সাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে উচ্চ মাধ্যমিকের পর এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের জন্য ভর্তি হতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি দাঁতের ডাক্তার হওয়ার জন্য ভর্তি হতে হবে ডেন্টাল কলেজগুলোতে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, শহিদ জিয়া মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, খুলনা মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ, পাবনা মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালি মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, যশোর মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীারা মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ। এর বাইরে ডেন্টাল ইউনিটগুলো হচ্ছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট, রংপুর মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট। এমবিবিএস কোর্সগুলোতে আসন রয়েছে ২,৭৩৭টি এবং ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোতে আসন রয়েছে ৫১৭টি। একটিমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সের ভর্তির উপযুক্ত শিক্ষার্থী বেছে নেওয়া হবে। সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজে ভর্তিও সম্পন্ন হবে এই একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই। ভর্তির বিজ্ঞাপন ও আবেদনের যোগ্যতা এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যেই বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী এবারে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৪ অক্টোবর। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আবেদন করতে হবে। ওইদিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আগের বছরের মতো এবারেও অনলাইনেই আবেদন করতে হবে। ২০১০ বা ২০১১ সালে এসএসসি বা সমমান এবং ২০১২ বা ২০১৩ সালে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা (পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যাসহ) আবেদন করতে পারবে। উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ থাকতে হবে ন্যূনতম ৮.০। তবে কোনোটিতেই ৩.৫-এর নিচে থাকলে হবে না। উপজাতীয় এবং পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয়দের জন্য অবশ্য মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.০ এবং এককভাবে একটি পরীক্ষায় জিপিএ ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে। তবে সব প্রার্থীদের জন্যই এইচএসসি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩.৫০ পেতে হবে। আর ২০১০ সালের আগে এসএসসি উত্তীর্ণরা আবেদনের অযোগ্য বলে গণ্য হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dghs.gov.bd থেকে ভর্তি সংক্রান্ত আরও তথ্য জানা যাবে। আর ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে http://dghs.teletalk.com.bd সাইট থেকে। প্রার্থী মূল্যায়ন ও ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন সর্বমোট ২০০ নম্বরের মধ্যে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় রয়েছে ১০০ নম্বর এবং বাকি ১০০ নম্বর রয়েছে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। পরীক্ষার্থীর এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএকে গুণ করা হবে ৮ দিয়ে এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএকে গুণ করা হবে ১২ দিয়ে। উভয় পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫.০ করে থাকলে এই অংশে ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বরই পাবে পরীক্ষার্থী। বাকি ১০০ নম্বর এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ এই পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েজ কোশ্চেন) প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাত্ ৪টি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে অতিরিক্ত ১ নম্বর কমে যাবে। ভর্তি পরীক্ষার ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে পদার্থবিদ্যা থেকে থাকবে ২০টি প্রশ্ন, রসায়নবিদ্যা থেকে থাকবে ২৫টি প্রশ্ন, জীববিদ্যা থেকে থাকবে ৩০টি প্রশ্ন, ইংরেজি থেকে থাকবে ১৫টি প্রশ্ন এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে থাকবে ১০টি প্রশ্ন। প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্ন করা হবে এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস থেকে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের জন্য সম্ভাব্য দেওয়া উত্তরের মধ্যে একাধিক উত্তর সঠিক থাকতে পারে, আবার কোনো সঠিক উত্তর নাও থাকতে পারে। সঠিক উত্তর না থাকলে ওই প্রশ্নে কোনো উত্তর দাগানো যাবে না। আবার একাধিক সঠিক উত্তর থাকলে সবগুলোই অপশনের বৃত্তই ভরাট করতে হবে। প্রস্তুতির কথা মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তির পরীক্ষায় প্রশ্ন সাধারণত আসে মূল বই থেকেই। এইচএসসি পর্যায়ের পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিজ্ঞান এবং ইংরেজি সিলেবাস থেকেই প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই এইচএসসি পর্যায়ের মূল বইগুলোই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। বইয়ের মূল পাঠের ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে বলে না বুঝে মুখস্ত করলে খুব বেশি লাভ হয় না। বরং মূল বইয়ের টেক্সটগুলো লাইন বাই লাইন পড়ে গেলে অনেক বেশি কাজে লাগবে। আর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়েই একাধিক লেখকের বই পড়ানো হয়। সবগুলো বই থেকেই প্রশ্ন হতে পারে। একজনের পক্ষে আসলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব লেখকের বই পড়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে যে লেখকের বই পড়া আছে, সেটি ভালো করে পড়ে, রিভিশন দিয়ে তারপর অন্য লেখকের বই পড়তে হবে। সেসব বইয়ে নতুন যেসব তথ্য মিলবে, সেগুলো আলাদা করে নোট করে নিলে আগেরগুলোর সাথে মিলিয়ে নিতে সহজ হবে। আর আগের কয়েক বছরের প্রশ্ন দেখলে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যাবে কোন অধ্যয়গুলো থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। সেই অধ্যয়গুলো একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিতে হবে। তাহলে আর দেরি কেন, প্রস্তুতিটাকে ঝালিয়ে নাও। ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশেষ কিছু টিপস মেডিকেল ও ডেন্টাল পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার বিকল্প নেই। ভর্তি পরীক্ষাতে ভালো করতে হলে কিছু বিষয়ের দিকে মনোযোগ বেশি দিতে হবে। যেমন, জীববিজ্ঞান থেকে এমনিতেই প্রশ্ন বেশি থাকে। এর মধ্যে আবার প্রাণিবিদ্যা থেকে প্রশ্ন থাকে বেশি। তাই প্রাণিবিদ্যা বাড়তি মনোযোগ দাবি করে। আবার রসায়নের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পত্র থেকে প্রশ্ন আসার প্রবণতা বেশি। তাই দ্বিতীয় পত্রে জোর বেশি দেওয়াই সমীচীন। পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে আবার যাবতীয় সূত্র, একক, মাত্রা, সমীকরণ প্রভৃতি বিষয়গুলো মাথায় ভালো করে রাখলে কাজে লাগে বেশি। ইংরেজির ক্ষেত্রে গ্রামার অংশটাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য অবশ্য সিলেবাস ঠিক করা মুশকিল। সেক্ষেত্রে পুরোনো বছরের প্রশ্ন সমাধান আর নিয়মিত দৈনিক সংবাদপত্র পাঠ অনেকটা কাজে দেবে। আর পড়ার সাথে সাথে লেখার অভ্যাস রাখাটাও বেশ কাজের হবে।