আটকে আছে ৪৩ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

পুলিশের উচ্চ পদে ৪৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে আছে। ১৭, ১৮, ২০ ও ২৪ তম বিসিএসে যোগ দেয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই ৪৩ জনের পদোন্নতি হয়নি। এসব ব্যাচের অন্যদের পদোন্নতি হলেও পদোন্নতি বঞ্চিতরা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগই কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ায় তাদের সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পদোন্নতি বঞ্চিতরা জানান, ১৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ৪৮ জন এএসপি পদে যোগ দেন। ২০০৬ সালে এদের মধ্যে ২৫ জনকে এডিশনাল এসপি থেকে এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ২০১০ সালের মধ্যে ২১ জনকে এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বাকি দু’জন মো. শাজাহান ও মাসুম বিল্লাহকে এখনো এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। একই ভাবে ১৮ তম বিসিএসে যোগ দেয়া আবু হেনা ও নজরুল ইসলাম এখনো এসপি পদে পদোন্নতি পাননি। এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া ২০১১ সালে শেষ হয়েছে। ২০ তম বিসিএসে যোগদানকারী ১০৭ জনের মধ্যে ৮২ জনকে এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয় গত বছর। বাকি ২৫ জনের পদোন্নতি এখনও ঝুলে আছে। এই ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিতরা জানান, এই ২৫ জনের মধ্যে অন্তত ১৫ জন এডিশনাল এসপি রয়েছেন যারা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৮২ জনের মধ্যে অনেকেই বিগত জোট সরকারের সময়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিলেন। তারাই বর্তমান সরকারের সময়ে নিজেদের আওয়ামী লীগ পন্থি হিসাবে পরিচয় দিয়ে পদোন্নতি নেন। পদোন্নতি বঞ্চিতদের মধ্যে একজন রয়েছেন, যাকে শুধু কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের কারণে জামায়াত মতাদর্শ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার পারিবারিকভাবে জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পরও ২ জন এডিশনাল এসপিকে আওয়ামী লীগ হিসাবে চিহ্নিত করে এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ২৪ তম বিসিএসে এএসপি পদে ২০৪ জন যোগ দেন। বিগত জোট সরকারের সময় এই ২০৪ জন এএসপি সারদা পুলিশ একাডেমীর এক বছরের প্রশিক্ষণে ৯ মাস অংশগ্রহণ করে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসলে পুলিশ সদর দফতরের প্রশিক্ষণ শাখা থেকে তাদের বাকি ৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী মাত্র ৮০ জন এএসপি তাদের ৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই এএসপি’র মধ্যে অন্তত ৫০ জন রয়েছেন যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ সময়ে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। এরপরও বর্তমান সরকারের সময় এই ৫০ জন এএসপিসহ ১৯০ জন এএসপিকে আওয়ামী লীগ পন্থি দেখিয়ে এডিশনাল এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ১৪ জনকে শুধুমাত্র এই ব্যাচের কয়েকজন প্রভাবশালী সহকর্মীর রোষানলে পড়ে বঞ্চিত রাখা হয়।