মেসির ছোঁয়ায় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
টানা চারবার বর্ষসেরার খেতাব, বার্সেলোনার মতো ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জয়, ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে রেকর্ডের পর রেকর্ড দখল করে চলা—ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার হতে যা যা করণীয়, প্রায় সবটাই এর মধ্যে করে দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। এখন হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা তুলতে পারলেই সর্বকালের সেরাদের একজন হয়ে যাবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মেসি বিশ্বকাপ মাতাতে পারুন বা নাই পারুন, বাছাইপর্বের আসর মাতিয়ে ঠিকই গত মঙ্গলবার দুই রাউন্ড খেলা বাকী থাকতেই দলকে তুলে দিলেন মূল পর্বে।
মেসির সৌজন্যেই ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেললো আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার রাতে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে প্যারাগুয়েকে ৫-২ গোলে হারিয়ে আসন্ন কনমেবল অঞ্চল থেকে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে ফেললো দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আরও তিনটি ম্যাচ। উরুগুয়ে ২-০ গোলে কলম্বিয়াকে ও ভেনেজুয়েলা ৩-২ গোলে হারিয়েছে পেরুকে। অন্যদিকে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচটি।
প্যারাগুয়ের ডিফেনসোরেস দেল চ্যাকো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার হয়ে অন্য গোলগুলো করেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও ম্যাক্সি রড্রিগেজ। প্যারাগুয়ের হয়ে দুটি গোল করেন নুনেজ পোর্তেলি ও রকি সান্তা ক্রুজ। এই জয়ের ফলে বাছাইপর্বে নিজেদের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো কোচ আলেস্যান্দ্রো সাবেলার দল।
এই ম্যাচে দুটি গোল করার মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেলেন বার্সেলোনার তারকা মেসি। আর এর মধ্য দিয়েই হার্নান ক্রেসপোকে টপকে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন এই ফুটবল জাদুকর। জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ৩৬। প্রথম স্থানে অবস্থান করা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোল সংখ্যা ৫৬।
ম্যাচ শেষে দলের কোচ অ্যালেস্যান্দ্রো সাবেলা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি দারুণভাবে সন্তুষ্ট। দলের কম্বিনেশনটা অনেক বেশি ভাল। এরপরও বলবো, উন্নতির কোন শেষ নেই। আমাদের এখনও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ। আর এর জন্য অনেক পরিশ্রম করা এখনও বাকি আছে।’
সাবেলা আরও বলেন, ‘ওরা আমাদের দুটো গোল দিয়েছে। প্রথমটা ছিল পুরোপুরিই একটা দুর্ঘটনা। আর দ্বিতীয় গোলের সময় আমরা ম্যাচটা মোটামুটি জিতেই গিয়েছিলাম। তবে, এর পর থেকে নব্বই মিনিটই নিজেদের শতভাগ দিয়ে খেলতে হবে। ম্যাচে আমাদের খেলায় উন্নতির ছাপ ছিল আর এখন আমরা এই ধারাটাই ধরে রাখতে চাই। এখন আমাদের কিছু বিকল্প পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। দলের ভালদিকটা সব দিক থেকেই কাজে লাগাতে হবে।’
আর্জেন্টিনার পথ ধরে এদিনই বিশ্বকাপে চলে যেতে পারত কলম্বিয়া; শুধু উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই চলতো। কিন্তু সে ম্যাচে ২-০ গোলে হারের ফলে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে উরুগুয়ে এই জয়ের পরও স্বস্তিতে নেই। ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে আছে তারা পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে। একটু পা ফসকালেই প্লে-অফ খেলতে হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার পঞ্চম দল হিসেবে।