বগুড়ায় আজ লংকান ভাইদের লড়াই
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
অর্জুনা রানাতুঙ্গা থেকে সনাথ জয়াসুরিয়া; শ্রীলঙ্কান গ্রেটদের কম দেখেনি ঢাকার ক্রিকেট। এবার সেই পথ ধরেই গতকাল ঢাকায় পা রাখলেন শ্রীলঙ্কার বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা তিলকরত্নে দিলশান। মজার ব্যাপার হল, সেই রানাতুঙ্গা-জয়াসুরিয়াদের ক্লাব, মোহামেডানের হয়েই ঢাকায় এলেন দিলশান। কাল দিলশান ঢাকায় আসার আগেই এই শহরে এই একই লিগ খেলতে চলে এসেছেন তার ছোট ভাই তিলকরত্নে সমপাথ। আর নাটকীয়ভাবে দিলশানকে আজ ছোট ভাইয়ের বিপক্ষে খেলেই ঢাকা লিগ শুরু করতে হবে। তবে ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, দিলশানের চিন্তা জুড়ে আছে এখন শুধুই মোহামেডান।
আর এই ক্লাবের হয়েও নিজের ফর্মটা ধরে রাখার প্রতীজ্ঞাই কাল বিমানবন্দরে নেমে শোনালেন এই মারকুটে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এর আগে না খেললেও বাংলাদেশ দিলশানের জন্য মোটেও অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। এখানেই অসামান্য পারফরম্যান্স করে গেছেন জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে এসে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করাটা তার অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ সফরে এক চট্টগ্রাম টেস্টেই জোড়া সেঞ্চুরি ও ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
গত বছরও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলে গেছেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের হয়ে।
দিলশান কাল বললেন, সেই পরিচিতিটাই কাজে লাগবে এখানে, ‘আমি বিপিএলে যখন খেলে গেছি, তখনও আমার ক্যাপ্টেন ছিল মাশরাফি। এখানে মোহামেডানেও তাই। ফলে আমার মানিয়ে নেয়া তো সহজ হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার যারা আছে, এদের অনেকেরই সঙ্গে বা বিপক্ষে খেলেছি বিভিন্ন সময়। ফলে মানিয়ে নেয়াটা কঠিন কিছু হবে না।’ এভাবে ঠিক ম্যাচের আগের দিন উড়ে এসে কতোটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, এ নিয়ে তর্ক চলতে পারে। তবে দিলশান ভালো করার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি ভালো করতে পারার পক্ষে যুক্তিও দিচ্ছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে, যখন যে দলের হয়ে খেলি, শতভাগ দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। আর এখানকার উইকেট ও শ্রীলঙ্কার উইকেট প্রায় একইরকম। ফলে এখানে আমার পক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করা সহজ হবে।’ দিলশানের নিজের ফর্মটা অবশ্য ঠিক ভালো যাচ্ছে না। সর্বশেষ ক্যারিবিয় প্রিমিয়ার লিগ ও শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে পারেননি। ফলে দিলশানের নিজের জন্যও ভালো করাটা দরকার। দিলশান সেটা মানছেন। সেই সঙ্গে তিনি মনে করছেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনি ভালো করতে পারলে সেটা শ্রীলঙ্কার জন্যও খুব উপকারী হবে। যুক্তি দিয়েই বোঝালেন দিলশান, ‘আগামী বছর এখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। তার আগে জাতীয় দল এখানে সফরে আসবে। ফলে বাংলাদেশে খেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা, এখানে রান করতে পারলে বা উইকেট নিলে; সে অভিজ্ঞতাটা দলের জন্যই খুব উপকারী হবে।’