মুখোমুখি আজ মুশফিক-সাকিবের দল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথম রাউন্ডের দুটি খেলা হয়ে গেছে, একটি পরিত্যক্ত হয়েছে। কিন্তু ‘বড় দল’ বলে যারা পরিচিত, তারা এখনো কেউ মুখোমুখি হয়নি। আজ সেই অপেক্ষাও সাঙ্গ হবে। রাজশাহীতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। এছাড়া আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিংও। নির্ধারিত ভেন্যু বিকেএসপির বদলে ফতুল্লায় আবাহনী নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস) মুখোমুখি হবে। আর বগুড়ায় প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মোহামেডান। রাজশাহীতে আজ কাগজে-কলমে ম্যাচটি মুশফিক-সাকিবের লড়াই হলেও ইনজুরির কারণে সাকিবকে মাঠে পাবে না কলাবাগান। ফলে তারকাখচিত শেখ জামালের বিপক্ষে শুরুতে একটু পেছন পায়ে থাকবে ক্লাবটি। অবশ্য এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ইতিমধ্যে তারা তিন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারকে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে কাপুকেদেরা ও জিহান মোবারকের উপস্থিতি নিশ্চয়ই দলকে বেশ এগিয়ে দেবে। বিদেশি সংগ্রহের দিকে শেষ পর্যন্ত প্রথম ম্যাচের আগ পর্যন্ত বরং শেখ জামাল খুব একটা জোর দিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের গতকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী একমাত্র বিদেশি তারকা হলেন দিলশান মুনাবিরা। তবে শেখ জামাল দেশি তারকাদের দিয়েই অনেক এগিয়ে আছে। মুশফিকুর রহিম, আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি, জুনায়েদ সিদ্দিকী, শফিউল ইসলাম, তুষার ইমরান সবাই সুস্থ আছেন এবং মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছেন। শেখ জামালের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তুষার ইমরান যেমন বলছিলেন, ‘সবাই সুস্থ আছে। আমরা মাঠে সেরা খেলার জন্য প্রস্তুতও আছি। তবে আমাদের প্রতিপক্ষও যথেষ্ট শক্তিশালী দল। তাই কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। এটুকু বলা যায় খুব ভালো খেলা হবে।’ এ ভালো খেলা আশা করছেন কলাবাগানের খেলোয়াড়রাও। সাকিবের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেবেন নাঈম ইসলাম। এছাড়া সৈয়দ রাসেল, ফরহাদ রেজা, নাসির উদ্দিন ফারুক, নাদিফ চৌধুরীরা আছেন; আছেন বিদেশিরাও। তারপরও ম্যাচ জমজমাট হবে বলেই বিশ্বাস করেন দলটির সিনিয়র পেসার সৈয়দ রাসেল, ‘আশা করি ভালো খেলা হবে। আমাদের খেলোয়াড়রা সেরাটা দিতে পারলে ম্যাচ জিতে বের হওয়া সম্ভব।’ কলাবাগানের মতো মোহামেডানও আজ তাদের অধিনায়ক ও সেরা তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ছাড়াই খেলতে নামবে। দলটির স্পোর্টস ডিরেক্টর লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বললেন, ‘মাশরাফি কেবল সুস্থ হয়ে উঠছে। ও খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের লম্বা মৌসুম সামনে, জাতীয় স্বার্থের কথাও ভাবতে হবে। তাই ওকে এই ম্যাচে আমরা বাইরেই রাখছি।’ মাশরাফির অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ। রাজিন দলে দেশি খুব বড় তারকাদের না পেলেও কর্তৃপক্ষ তাকে দারুণ শক্তিশালী একটি দলই দিচ্ছেন আজকের ম্যাচের জন্য অন্তত। মোহামেডানের হয়ে এই ম্যাচ খেলতে ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন দুই লঙ্কান তারকা তিলকরত্নে দিলশান ও উপল থারাঙ্গা এবং রাতেই ঢাকায় পৌঁছানোর কথা আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর। রাজিন আশাবাদী এই দল নিয়ে দারুণ শুরু করা সম্ভব, ‘মাশরাফি থাকলে আরো ভালো হত। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের দল খুবই ভালো হয়েছে। আশা করি ভালো একটা ফল দিয়েই শুরু করতে পারবো আমরা।’ মোহামেডানের বিপক্ষে মোমিনুল, সোহাগ গাজী, ফরহাদ রেজাদের প্রাইম দোলেশ্বরকে নিষ্প্রভ মনে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে দোলেশ্বর দিলশানের জবাব দেয়ার জন্য একটা কাজ করেছে—শ্রীলঙ্কা থেকে তার ছোট ভাই তিলকরত্নে সমপাথকে নিয়ে এসেছে! আর সবমিলিয়ে নিজের দলের দিকে চেয়ে অন্তত আগেই হার মেনে নিতে রাজী নন দোলেশ্বরের সোহাগ গাজী, ‘ক্রিকেট খেলাই হল এ রকম; আগে থেকে দল দেখে তো ম্যাচের ফল ঠিক করা যাবে না। হ্যা, ওদের দলে অনেক তারকা আছে। কিন্তু আমরাও খেলতেই নামবো। ফলে কেন জেতা সম্ভব না?’ প্রাইম দোলেশ্বরের মতো এ রকম আত্মবিশ্বাস ছাড়া আজ আবাহনীর মুখোমুখি হওয়ার আগে সিসিএসেরও তেমন কোনো সম্বল নেই। আবাহনীও এবার খুব শক্ত দল করতে পেরেছে তা নয়। অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসই সেরা ভরসা। সেই সঙ্গে থারাঙ্গা পারাভিতানাসহ তিন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারও এসেছেন আবাহনীতে। যদিও আবাহনী অধিনায়ক শাহরিয়ার ফেভারিট তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তারপরও আজ ফতুল্লায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি, ‘দলগুলোর শক্তি সবারই বেশ কাছাকাছি। ফলে কাউকে এগিয়ে রাখা যাবে না। আমরা জয় পাওয়ার জন্যই মাঠে নামবো।’ আজকের খেলা শেখ জামাল—কলাবাগান (রাজশাহী) আবাহনী—সিসিএস (ফতুল্লা) মোহামেডান—প্রাইম দোলেশ্বর (বগুড়া)