যাদুকাটা নদীর পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা

সুনামগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তাহিরপুর উপজেলার সাধারণ মানুষজন কাজের অভাবে মানবেতর দিনযাপন করছে। তাহিরপুর ও পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক যাদুকাটা নদীতে বালি, পাথর ও কয়লা উত্তোলন করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। প্রতিদিন ঐসব শ্রমিকরা ৮শ’ থেকে হাজার টাকা উপার্জন করতো। অপরদিকে মহিলা শ্রমিকরা নুড়ি-বালির সাথে মিশে আসা কয়লা ঠেলাজালে তুলে ধুয়ে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে মাথাপিছু রোজগার করতো ৫শ’ থেকে ৬ শ’ টাকা। এতে করে ভাটি এলাকার শ্রমজীবী পরিবারগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে দিনানিপাত করতো। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে কোন বেগ পেতে হতো না। দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী যাদুকাটা নদীতে বিজিবি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকায় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এতে করে হাজার হাজার শ্রমিক অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে ও স্কুলকলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর এর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় বিজিবি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণে সীমান্তের জিরো লাইনে কাজ করতে সুযোগ না দেয়ায় কিছু সংখ্যক উচ্ছৃংখল শ্রমিক রাতের আঁধারে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের ফলে ইতোপূর্বে একাধিকবার বিএসএফ কর্তৃক শ্রমিক আটক ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকার একটি সুযোগ সন্ধানী চক্র এর কারণ হিসেবে বিজিবিকে দায়ী করে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে বিজিবিকে হেয় করার চেষ্টা করে। স্থানীয় চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন বিজিবি কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা বলে পুনরায় শ্রমিকদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেন ।