ভোলায় নদী ভাঙ্গন অব্যাহত সিসি ব্লক স্থাপন জরুরি

ষাট দশক থেকে জেলা ভোলার ভাঙ্গন শুরু হয়ে অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গনরোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মিত হলেও মেঘনার তীব্র স্রোতে বাঁধসহ মূল ভূমি নদীগর্ভে চলে যায়। ইতিমধ্যে জেলার রাজাপুর, ইলিশা, ধনিয়া, কাচিয়া, শিবপুর, দৌলতখান, বোরহানুদ্দীনের মধুপুর, মদনপুর, মেদুয়া, ভবানিপুর, হাজিপুর, নেয়ামতপুর, শাহাপুর, পক্ষীয়া, হাসাননগর, সৈয়দপুর, গঙ্গাপুরসহ অধিকাংশই ভূমিই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাকী ৩/৪টি ইউনিয়ন ভাঙ্গনকবলিত। এসব এলাকার লাখ লাখ মানুষ বেড়িবাঁধ, ফুটপাত কিংবা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভোলাসদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মেঘনাপাড়ের তুলাতুলি পয়েন্টে ৫৪ কোটি ৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩.৩০০ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক স্থাপন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যে স্থানগুলো সিসি ব্লক করা হয়নি সে স্থানগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। সিসি ব্লক স্থানগুলোও ভাঙ্গনকবলিত। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ভোলার ইলিশা জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতখান পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার নদীপাড় সিসি ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ নির্মিত হলে এ এলাকাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের চেষ্টায় ভোলা শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য একনেক ১০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ঐ টাকা হতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় নদীপাড়ে জি ও ব্যাগ ও সিসি ব্লক স্থাপনের জন্য। অন্যদিকে ২০১২-১৩ ও ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের জন্য ৪ শত ২০ কোটি ও বোরহানুদ্দীনের শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড রক্ষার্থে ১৯১ কোটি ১৩ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, বর্ষার মধ্যে ব্লকের কাজ করা যাবে না। তবে জি ও ব্যাগ তৈরির কাজ চলছে। এলাকাবাসী জানায়, ধীরগতিতে জিও ব্যাগ ফেললে তীব্র স্রোতে তা নদীগর্ভে চলে যায়। এ জন্য এক নাগারে অনেক ব্যাগ ফেলা দরকার। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান বলেন, নদীপাড়ে ব্লক স্থাপন ছাড়া ভাঙ্গনরোধ করা সম্ভব নয়।