অতিলোভী টাকাওয়ালারাই প্রধান টার্গেট

‘গত কয়েক বছরে রাজধানীতে যেসব জাল ডলার প্রতারক গ্রেফতার হয়েছে,তাদের সিংহভাগই বিদেশি নাগরিক। আর এদের মধ্যে অধিকাংশই নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও আফ্রিকান । তারা নিজেদেরকে গার্মেন্টস বা অন্য কোন ব্যবসায়ীর পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করে। গ্রেফতার হওয়ার পর এরা সবাই স্বীকার করেছে, তাদের প্রতারণার মূল টার্গেট টাকাওয়ালা ব্যক্তি। তবে সব টাকাওয়ালা নয়, যাদের মধ্যে লোভের মাত্রা বেশি, তারাই তাদের কথায় ‘ভাল কাস্টমার’। আর এই ‘ভাল কাস্টমার’রা কোন কিছু যাচাই বাছাই না করে প্রতারক চক্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এরপর যা হওয়ার তাই হয়। তবে প্রতারিত হয়ে কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নেয়। অনেকে লোকলজ্জার ভয় গোটা বিষয়টিই চেপে যান। — এ কথাগুলো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ওবায়দুল হকের। তিনি বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করেছেন বেশ কয়েকটি বিদেশি জাল ডলার প্রতারক চক্রকে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জাল ডলার প্রতারক চক্রের তিন নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করেন রাজধানীর খিলক্ষেত ও কলাবাগান এলাকা থেকে। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জাল ডলার দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন —এ্যাডলাজু স্যামুল, ওকোক্স সিমকো ইমোরিয়েল ও ওকাফোর চিকে। গতকাল বুধবার গ্রেফতারকৃত তিন নাইজেরিয়ান নাগরিককে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছে। যেভাবে ধরা পড়ে ঃ গত ১৫ আগস্ট খিলক্ষেত রিজেন্সি হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে ওয়াসার প্রকৌশলী ইন্দ্রিরা রোডের বাসিন্দা মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরিচয় হয় নাইজেরিয়ান নাগরিক এ্যাডলাজু স্যামুলের সঙ্গে। আর পরিচয় বন্ধুত্বে গড়ায়। এ সুযোগে স্যামুল তাকে ডলারের লোভ দেখায়। এক লাখ টাকার বিনিময় তাকে পাঁচ হাজার ডলার। লোভে পড়ে মোস্তফা কামাল রাজি হয়ে যান। এক লাখ টাকা তুলে দেন এ্যাডলাজু স্যামুলের হাতে। এরপর গত ২৩ আগস্ট একই স্থানে স্যামুল তার দুই সহযোগী নাইজেরিয়ান নাগরিক সিমকো ইমোরিয়েল ও ওকাফোর চিকের সঙ্গে মোস্তফা কামালের পরিচয় করিয়ে দেন। তাদেরকে বন্ধু ভেবে ডলারের লোভে এক লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু ডলার না দিয়ে তারা মোস্তফা কামালের টাকা আত্মসাত্ করে। এ অবস্থায় মোস্তফা কামাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপরই মহানগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করে। জব্দ করা হয় জাল ডলার তৈরির কাজে ব্যবহূত খাকি কালারের টেপ জড়ানো প্লাস্টিকের বোয়ম, চারশ’ গ্রাম সাদা রংয়ের পাউডার, এক কেজি ওজনের বার্লি কালারের তরল পদার্থ, পাঁচশ’ গ্রাম ওজনের লালচে রংয়ের তরল পদার্থ, তিনশ’টি ডলার সাইজের কালো রংয়ের কাগজের বান্ডিল ও একটি পলেস্টার ছাপার ব্যাগ। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ( উত্তর) নাজমুল আলম জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত তিন নাইজেরিয়ান অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। তাদের আচরণ উগ্র। বাংলাদেশে তারা কবে এসেছে, কোথায় তারা অবস্থান করছে এর কোনটারই জবাব তারা দেয়নি। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে তিনি জানান। পুলিশকে মারধরের চেষ্টা ঃ গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃত তিন নাইজেরিয়ানকে আদালতে নেয়ার জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গাড়িতে তুলছিল। এসময় এই তিন নাইজেরিয়ান নাগরিক গোয়েন্দা (ডিবি) কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায়। তারা ডিবির কর্মকর্তাদের কিল ঘুষি এমনকি লাথিও মারে। এসময় গোয়েন্দা পুলিশের অস্ত্রধারী সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।