বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় জাপানের উত্কণ্ঠা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় উত্কণ্ঠিত জাপান সরকার। জাপান সরকারের নীতি নির্ধারক ব্যক্তিবর্গ মনে করেন, নির্বাচন যে কাঠামো বা যেভাবেই হোক ক্ষমতার সুষ্ঠু পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কোনভাবেই সংঘাত, সহিংসতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কাম্য নয়। অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান বাংলাদেশের সমৃদ্ধির সাথী হিসেবে থাকতে চায়। এই প্রতিনিধি সম্প্রতি জাপান সফরকালে টোকিওতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই মন্তব্য করেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মিস আকেমি সুতো বলেন, বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হচ্ছে। সম্ভাবনাও অনেক বেশি। কিন্তু বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সমস্যা অনুপযুক্ত অবকাঠামো ও বিদ্যুত্ সংকট। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অনেক ব্যবধান। সরকার সংকট মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে। কিন্তু বড় সমস্যা হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংসতা। গত এক বছরে হরতাল ও অন্যান্য কারণে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের অস্থিরতা থাকুক তা আমরা চাই না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যেই জিতুক জাপানের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে জাপান পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে কর্মপরিকল্পনা নেবে। যাতে অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় থাকে। জাপান সরকার একান্তভাবে আশা করে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সংঘাতমুক্ত হবে। নির্বাচন বয়কট নয়, সব দল অংশ নেবে। বাংলাদেশে জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাতসুসিরো হরিগুচি ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্ম বিশেষ কর নতুন ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে। ২০০১ সালে জিতেছিল বিএনপি। এ দুটি দল একে অপরকে সহায়তা করা দরকার। তা না হলে দেশ এগুবে না। তাই এখনো দুই দল সমঝোতায় পৌঁছা উচিত। সেটা নির্বাচন, সরকার পদ্ধতি বা সংসদ সব ইস্যু নিয়েই। জাপান বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি লীগের জেনারেল সেক্রেটারি ক্ষমতাসীন এলডিপির এমপি ইচিরো সুকাদা ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশে এখন বিভ্রান্তি চলছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের মতো বিদেশি বন্ধুরাও শঙ্কিত। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদল আর গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা দরকার। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির জন্য।