ফিরোজ মাহমুদের একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

দৃশ্যশিল্পের রূপ বদল

ফিরোজ মাহমুদের রেখাচিত্রের সাথে আলোকচিত্রের যুক্ততায় তৈরি হয়েছে নতুন এক শিল্পভাষা। এ ধরনের শিল্পকলাকে ‘অপ’ আর্ট বলে অভিহিত করা যায়। ছবিগুলোর ভাবনা হলো—জনপ্রিয়তার বিপরীত পিঠে থাকে অজনপ্রিয়তা, আর সেই জনপ্রিয় মানুষ বিতর্কিত হয় জাগতিক মোহে পড়ে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য চরিত্র যখন কোনো বিতর্কে যুক্ত হয় তখন তা মানুষের প্রিয়তা হারায়। ফিরোজ মাহমুদ এ বিষয় নিয়ে গত সাত বছর ধরে আলোকচিত্রের সাথে রেখা প্রয়োগ করে ভারসাম্য তৈরির নিরীক্ষা করছেন। এই প্রজেক্ট নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে তার কাজ উপস্থাপন করেছেন। এ প্রদর্শনীর শিরোনাম—‘লস অফ দি টস ইজ ব্লেসিং অফ দেআর ডিসগুইস’। প্রদর্শনীর ছবিগুলো প্রথম দেখাতে মনে হবে, সারা বিশ্বের জনপ্রিয় মানুষের গায়ে কালি কলমের কাটাকুটি। শিল্পী এ নিয়ে বলেন, ছবির চরিত্রগুলোকে রেখার সাহায্য নিয়ে আটকে দিয়েছেন যাতে তারা জনপ্রিয়তার আসন থেকে ছিটকে না পড়ে। জাপানে বসবাসরত অবস্থায় শিল্পীর কাছে একসময় সুমো কুস্তি খেলা প্রিয় হয়ে ওঠে। জাপানি সুমো কুস্তিগীর অখিনরি-কে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন তিনি । একসময় তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। সাধারণ মানুষের মতো তাঁর মাঝেও প্রতিক্রিয়া হয়। একজন শিল্পীর ড্রয়িং দিয়ে সেলিব্রেটিদের দিকে সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করা এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য বলা চলে। তুমুল জনপ্রিয় এ চরিত্রগুলোর মধ্যে আছেন—অখিনরি, মাইকেল জ্যাকসন, মাইক টাইসন, জিনেদিন জিদান, দিয়াগো মারাদোনা, শোয়েব আখতার, ইতালিয়ান প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি, ভারতীয় অভিনেতা সালমান খান, সঞ্জয় দত্ত, বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন, ক্রিকেটের মোহাম্মদ আশরাফুল, অভিনেতা অনন্ত জলিল এবং জুলিয়ান অ্যাসানজ। এসব মানুষ যেমন খ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁদের কর্মগুণে, ঠিক তেমনি তাঁদের ব্যক্তিত্ব পতনের দিকে ধাবিত হয়েছে অপকর্মের কারণে। তাঁদের এ অবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্যে শিল্পীর এ ড্রয়িংনির্ভর আলোকচিত্রের সৃষ্টি। স্যাটায়ারধর্মী কিন্তু অনুশোচনায় ভরা এ কাজের মধ্যে শিল্পীর ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। মূল্যবান দিক হলো, আলোকচিত্রের দৃশ্যরূপ পরিবর্তন এবং ভাব পরিবর্তন করা। মাধ্যম হিসেবে আলোকচিত্রের সাথে ছয়টি ভাস্কর্য রয়েছে। এ ধরনের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী সাধারণত পাবলিক স্পেসগুলোতে হয়ে থাকে। অধিকাংশ ড্রয়িং আলোকচিত্র কেটে রেখা তৈরি করা। এছাড়াও জেল পেন, লাল কালি, অ্যাক্রেলিক, ফেল্ট পেন ব্যবহার করা হয়েছে শিল্পকর্মগুলোতে। এই আলোকচিত্রের প্রথাগত অর্থ বদল, শিল্পের নতুন ভাষা আমাদের দৃষ্টির দিগন্ত খুলে দেবে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা আর্ট সেন্টারে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী শেষ হয় ১২ সেপ্টেম্বর।