মু খো মু খি

নাটকের খুঁটিনাটি সমস্যা দূর করতেই নাট্যযুদ্ধ

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। আমার ব্যস্ততা তো বিজ্ঞাপন নিয়েই। সম্প্রতি নতুন ব্যস্ততা যোগ হলো, তা হলো আমাদের ব্যাকড্রপ থেকে ‘নাট্যযুদ্ধ’। বিজ্ঞাপন ও নাট্যযুদ্ধ এই দুটোই এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্ন। এর বাইরে আপাতত কিছু ভাবা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে আপনার উপস্থাপনার কোনো অনুষ্ঠান পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ কী? আপাতত উপস্থাপনা বন্ধ। আমি অন্যের অনুষ্ঠান তো উপস্থাপনা করি না। নিজের অনুষ্ঠানই পরিকল্পনা, নির্মাণের পাশাপাশি উপস্থাপনাটা করি। তাই হুটহাট করে করি না। তার উপরে গত বেশ কিছুদিন ধরে বিজ্ঞাপনের কাজের ভালো চাপ নিতে হয়েছে, তাই উপস্থাপনা নিয়ে ভাবার সময় পাইনি। আগামী এক বছরও উপস্থাপনা সম্ভব হবে না। এর পর ব্যস্ততাটা একটু কমলে হয়তো শুরু করব। নাট্যযুদ্ধের জন্য বিজ্ঞাপন নির্মাণে ব্যঘাত ঘটবে কী? নিশ্চয়ই না। বিজ্ঞাপনই তো আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এটাইতো আমার কাজের জায়গা। আমার খোরাকের জায়গা। সব কিছুর আগে এটা। নাট্যযুদ্ধও একটা স্বপ্ন। তবে নাট্যযুদ্ধ আমার জন্য কমার্শিয়ালি কোনো জায়গা নয়। এখান থেকে আয়-রোজগার করব এমন উদ্দেশ্যে শুরু করিনি। নাট্যযুদ্ধ শুরু করার কারণই হলো, আমরা যেহেতু সংস্কৃতির সঙ্গে, মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছি। তাই আমাদের জায়গা থেকে এই শিল্পের জন্য, দর্শকদের জন্য, চ্যানেলদের জন্য, নাটকের জন্য ভালো কিছু করতে পারার চেষ্টা। আমাদের কনসেপ্ট নতুন, তাই একটা রিস্কের উপর দিয়ে হাঁটছি। তবে মিডিয়ার উন্নয়নের জন্যই আমরা সামগ্রীকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। নাট্যযুদ্ধকে নাট্য বিপ্লব বলা যেতে পারে। আমাদের দেশের দর্শকরা দেশীয় নাটকের অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশীয় নাটকের অনেক খুঁটিনাটি অনুষঙ্গের অভাব রয়েছে। এই অভাবগুলোই আমরা পূরণ করে দর্শকদেরকে আমাদের দেশীয় নাটক দেখায় উত্সাহী করতে চাই। ভালো দেশীয় প্রোডাক্ট দিয়ে দেশীয় চ্যানেলে তাদের ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু দর্শকরা দেশীয় চ্যানেল থেকে দূরে থাকার মূল অভিযোগ তো বিজ্ঞাপন বিরক্তি। এর সমাধানে কি কিছু করছেন? বিজ্ঞাপন শুধু আমাদের দেশেই নয়। বাইরের দেশের চ্যানেলেও কিন্তু দেখা যায় অনেক বিজ্ঞাপন। ১০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচার করার পর বলে ৩ মিনিটের মধ্যে ফিরছি। আমাদের দেশেও মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে। আর এটা তো আজ থেকে নয়, বিগত ৫ বছর ধরেই চলছে। চ্যানেলওয়ালারাও নানাভাবে চেষ্টা করেছে। আমাদের দর্শকরা নাটক দেখতে বসে না, বিজ্ঞাপন দেখতে বসে। আমরা সবাই মিলেই বিষয়টার সমাধান করতে হবে। আর নাট্যযুদ্ধ সেই সমাধানেরই একটি বড় মাধ্যম বলতে পারেন। ভালো গল্প, নির্মাণ ও মানের নাটক দিয়ে দর্শকদেরকে টানতে চাই। চ্যানেলওয়ালারা বিজ্ঞাপনের হার কমিয়ে দর্শক টানবে। এভাবেই এগোতে হবে।