ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ
সবাইকে ছাপিয়ে মোহাম্মদ নবী
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৬
প্রিমিয়ার লিগে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের মেলা বসেছিল গতকাল। তিলকরত্নে দিলশান, উপল থারাঙ্গার মতো বড় তারকারাও সামিল ছিলেন সেই মেলায়। সঙ্গে বাংলাদেশের তারকারা তো ছিলেনই। কিন্তু এই সবাইকে ছাপিয়ে কাল দিনের নায়ক হয়ে উঠলেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ও বাংলাদেশের তরুণ পেসার আল আমিন। দিলশান-থারাঙ্গার ব্যর্থতার পরও নবীর ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে বগুড়ায় প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ৩৪ রানের জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং। এদিকে ফতুল্লায় আল আমিনের ভয়ংকর বোলিং, ১৬ রানে ৬ উইকেটে ভর করে সিসিএসকে মাত্র ৩৫ রানে অলআউট করে দিয়ে ২১২ রানের বিশাল জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। রাজশাহীতে জুনায়েদ সিদ্দিকীর ৯৫ রানের ইনিংসকে কেন্দ্রে রেখে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে কলাবাগানের বিপক্ষে ১৬ রানের জয় পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রীড়াচক্র।
নবীর ব্যাটিং-দিলশানের বোলিং!
মোহামেডানের তারকাখচিত দলও দোলেশ্বরের ফরহাদ রেজা, সোহাগ গাজীদের সামনে কার্যত ধসেই পড়ল। দলীয় ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেললো মোহামেডান; এর মধ্যে দিলশান ২৫, উপল থারাঙ্গা ১২ ও রাজিন সালেহ ১১ রান করে ফিরে গেলেন! মোহামেডানের ধসে পড়া তখন সময়ের ব্যাপারে।
ঠিক এই সময়ে রুখে দাঁড়ালেন আফগানিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ৯০ বলে ১৩টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো ১৪৬ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলে ফেললেন তিনি।
৪৯ বলে প্রথম ফিফটিতে পৌঁছানো এই আফগান তারকা পরের ২৭ বলে দ্বিতীয় ফিফটি করে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেলেন। এই বিশাল ইনিংস খেলার পথে সামসুর রহমান শুভকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে যোগ করলেন ৭৬ রান। নবী ষষ্ঠ উইকেটে। ধীমান ঘোষকে নিয়ে ১২৯ রান যোগ করলেন এই সময়ে; এই জুটিতে নবীর একার অবদানই ৩৮ বলে ৯৪ রান!
মূলত এই বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৭ রান তোলে মোহামেডান। জবাব দিতে নেমে দলীয় ৪ রানেই ওপেনার রনি তালুকদারকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ১১২ রানের জুটি করে বেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মেহেদী মারুফ ও দিলশানের ছোট ভাই সমপাথ। কিন্তু ফিফটির পরপর এই দু’জন আউট হয়ে যান এবং ধসে পড়ে দোলেশ্বরের প্রতিরোধ। ৬৮ রান করে বড় ভাই দিলশানের বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সমপাথ। দিলশান ব্যাটে ব্যর্থ হলেও ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ৪৮.২ ওভারে দোলেশ্বরকে ২৭২ রানে অলআউট করায় নেতৃত্ব দেন।
দুই বোলারের ১০ উইকেট
ফতুল্লার ম্যাচে আলোচ্য হয়ে উঠতে পারতেন সিসিএসের বোলার বিশ্বনাথ হালদার। ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বড় দল আবাহনীকে বেশ খানিকটা হাত-পা বেঁধেই রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পকেটে পুরে ফেললেন আবাহনীর দুই বোলার আল আমিন ও নাবিল সামাদ। দু’জনে মিলে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে রেকর্ড ৩৫ রানে অলআউট করলেন তারা সিসিএসকে। আগে ব্যাট করা আবাহনীর কোনো ব্যাটসম্যানই খুব বড় স্কোর করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কান ইন্ডিকা ডি সরমের ৫২ ও নাজিম উদ্দিনের ৪১ রানের সঙ্গে ছোট ছোট কয়েকটা ইনিংস মিলিয়ে ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ২৪৭ রানে অলআউট হয় আবাহনী।
জবাব দিতে নেমে সিসিএস যেন সেই সাবেকি আমলের ‘টেলিফোন নম্বর ব্যাটিং’ শুরু করে দিল। দলটির পুরো ইনিংসে একজন ব্যাটসম্যানও দুই অংকের দেখা পাননি; সর্বোচ্চ ৬ রান করেছেন দু’জন। আল আমিন ২০.২ ওভারে ৩৫ রানে শেষ করে দেন সিসিএসকে।
জুনায়েদ বনাম জিহান
কাল দিনের প্রথম সেঞ্চুরিটা জুয়েদের ব্যাট থেকেই আসতে পারত। কিন্তু রাজশাহীতে কলাবাগানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে জিহান মোবারকের বলে আউট হয়ে ফেরেন জুনায়েদ। শেষ পর্যন্ত শেখ জামাল বনাম কলাবাগানের ম্যাচটা জুনায়েদ বনাম জিহানের লড়াইয়ে পরিণত হল। জুনায়েদের এই ইনিংস আর মুশফিকের ৪৩ রানের পরও জিহান মুবারকের ৩৩ রানে ৫ উইকেট শিকারের ফলে ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ২৬২ রানে অলআউট শেখ জামাল।
জবাবে অধিনায়ক নাঈমের ফিফটি, ফরহাদের ৪১ ও কাপুকেদেরার ৪৬ রানে দিব্যি চলছিল কলাবাগানের ইনিংস। কিন্তু টেল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা কোনো প্রতিরোধ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৪৬ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।