আল আমিনের আগমনী সুর!
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
লিকলিকে দেহ, ছয় ফুটের ওপর উচ্চতা, মুখভরা অকৃত্রিম হাসি আর কৃষ্ণবর্ণ মিলিয়ে ছেলেটিকে দেখলেই অলিম্পিক কাঁপানো দূরপাল্লার দৌড়বিদ বলে ভ্রম হয়! ভ্রমটা ভেঙে যেতে সময়ও লাগে না। কারণ ওই হাসি দিয়েই তিনি জোর গলায় জানিয়ে দেন, ‘আমার স্বপ্ন মাশরাফি ভাইয়ের মতো ভালো বোলার হওয়া’।
মাশরাফির মতো, নাকি তার চেয়েও ভালো বোলার হবেন; সেটা সময় বলবে। তবে বাংলাদেশের উঠতি এই পেসার আল আমিন হোসেন, গতকাল নিজের বোলিং পারফরম্যান্স দিয়েই আরেকবার জানিয়ে দিলেন—তিনি আসছেন। ফতুল্লায় দূরন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৬ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে যেন নিজের আগমনী গানটাই সজোরে বাজিয়ে দিলেন এই সদাহাস্যময় তরুণ।
ঝিনাইদহের ক্রিকেটার আল আমিন ২০১১ সালে শুরু করেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা। এখন পর্যন্ত ১৩টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৪৫ উইকেট এবং ১২টি সীমিত ওভারের ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে নিজেকে দারুণভাবেই নির্বাচকদের বিবেচনায় রেখেছেন ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ। তারই পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলের তারকাখচিত ‘এ’ দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরেও গিয়েছিলেন আল আমিন।
ইংল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ ‘এ’ দল যে একটিমাত্র জয় পেয়েছিল শেষ ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে তার অন্যতম রূপকার ছিলেন এই আল আমিন। লায়ন্সের সঙ্গে সেই ম্যাচের পর গতকাল খেলা প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই ৬ উইকেট। দুটোর মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে, সেটা আল আমিন নিজেই ম্যাচ শেষে বুঝিয়ে দিলেন, ‘ইংল্যান্ড সফর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ওখানে পেস বোলিং করে অনেক উন্নতি করা যায়। আজকের (গতকাল) পারফরম্যান্সে ওই সফরটা একটা ভূমিকা রেখেছে।’
এমন একটা পারফরম্যান্স স্বপ্ন দেখতেন সবসময়ই তিনি। গত বছর প্রিমিয়ারে খেলেছেন ভিক্টোরিয়ার হয়ে। শুরু থেকে স্বপ্নের ক্লাব আবাহনীতে এবার সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই ভাবছিলেন, একটা ভালো কিছু করবেন প্রিয় ক্লাবের হয়ে। সেটাই কাল করে ফেললেন। আর এই দূরন্ত পারফরম্যান্সের রহস্যটাও বলে দিলেন, ‘আমাদের ইনিং চলার সময়ই দেখছিলাম, বল থেমে থেমে আসছে। নিজে নিজে ঠিক করলাম, স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করলে পেস ভেরিয়েশনে খেলতে ওদের সমস্যা হবে। সেটাই হয়েছে।’
এই চিন্তা, এই দ্রুত মানিয়ে নেয়া ও এই কার্যকরিতা হয়তো খুব দ্রুতই আল আমিনকে তার স্বপ্নের ক্রিকেটার মাশরাফির মতো জাতীয় দলে টেনে নেবে। হয়তো তার হাত ধরেই বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের হাহাকার মিটবে। কিন্তু আল আমিন এখন এসব নিয়ে চিন্তিত নন, ‘ভাইয়া, স্বপ্ন তো সবাই দেখে। কিন্তু আমার কাজ তো আসলে শুধু পারফরম করা। আমি খেলবো, কি খেলবো না, সেটা ভাবার জন্য তো নির্বাচকরা আছেন।’
চিন্তাতেও আল আমিনের পরিণতমনস্কতা পরিষ্কার।
ওয়াল্টন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১২-২০১৩
মোহামেডান- প্রিমিয়ার দোলেশ্বর
মোহামেডান: ৫০ ওভারে ৩০৭/৮ (শামসুর রহমান ৪৫, মো: নবী ১৪৬; ফরহাদ রেজা ২/৭৯, আশরাফুল হক ৩/৪৭)।
প্রিমিয়ার দোলেশ্বর: ৪৮.২ ওভারে ২৭৩/১০ (মেহেদী মারুফ ৫৫, তিলকারত্নে সমপাথ ৬৮; মুরাদ খান ৩/৫১, তিলকারত্নে দিলশান ৩/৩৭ )
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: মো: নবী।
মোহামেডান ৩৪ রানে জয়ী।
শেখ জামাল—কলাবাগান ক্রিকেট ক্লাব
শেখ জামাল: ৪৯.৪ ওভারে ২৬২/১০ (জুনায়েদ সিদ্দিকী ৯৫, মুশফিকুর রহিম ৪৩; জিহান মোবারক ৫/৩৩, ফরহাদ হোসেইন ১/২০)
কলাবাগান ক্রিকেট ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৪৬/৯ (নাঈম ইসলাম ৫০*, কাপুগেদারা চামারা ৪৬। সফিউল ইসলাম ৩/৬৪, ইলিয়াস সানি ২/৩৫)
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: জিহান মুবারক
শেখ জামাল ১৬ রানে জয়ী
আবাহনী লিমিটেড-সিসিএস
আবাহনী লিমিটেড: ৪৯.৪ ওভারে ২৪৭/১০ (নাজিম উদ্দীন ৪১, আন্ডিকা দে সারাম ৫২; থিলান তুসারা ৩/৪২, বিশ্বনাথ হালদার ৫/৩৮)
ক্রিকেট কোচিং স্পোর্টস ক্লাব: ২০.২ ওভারে ৩৫ রান/১০ (জিহান রূপাসিংঘে ৬, সালমান ৬; আল-আমিন ৬/১৬, নাবিল সামাদ ৪/৪)
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: আল-আমিন
আবাহনী ২১২ রানে জয়ী।