থ্রিজির লাইসেন্স পেল তিন অপারেটর
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৯
নিলামে ওঠা দামের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করায় গতকাল বৃহস্পতিবার তিনটি বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরকে থ্রিজি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। অপারেটর তিনটি হল গ্রামীণফোন, রবি ও এয়ারটেল। বাংলালিংক পুরো টাকা পরিশোধ না করায় গতকাল তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়নি বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস। তিনি বলেন, সময় আছে, তারা টাকা পরিশোধ করলেই লাইসেন্স পাবে। তবে গতকাল বিকালে তাদের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়েছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান গতকাল এই তিন অপারেটরের প্রতিনিধিদের হাতে লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।
লাইসেন্স হস্তান্তরের পর অপারেটরদের উদ্দেশ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাহকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ডেটা সার্ভিস পায়, এই সেবা যাতে সহজলভ্য হয়, সে বিষয়ে আপনারা খেয়াল রাখবেন। হাজার হাজার লাইসেন্সের মধ্যে এই লাইসেন্সটি কিন্তু আলাদা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এখন যে টাকার বিনিময়ে যে ডেটা সার্ভিস দিয়ে থাকে তাতে গ্রাহকরা সন্তুষ্ট নয়। তাই শুধু ব্যবসা দেখলে হবে না, সেবার মানও ঠিক রাখতে হবে। কেউ যদি কোয়ালিটি সার্ভিসের ব্যাপারে শৈথিল্য দেখায় তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসি কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত থ্রিজি স্পেকট্রামের নিলামে অংশ নিয়ে গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল ৫ মেগাহার্টজ করে স্পেকট্রাম কেনে। সে অনুযায়ী প্রতি মেগাহার্টজ ২ কোটি ১০ লাখ ডলার দরে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের জন্য গ্রামীণফোন সরকারকে পরিশোধ করবে প্রায় ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। আর বাকি তিন অপারেটরকে দিতে হবে প্রায় ৮১৬ কোটি টাকা করে। গ্রামীণফোন, রবি ও এয়ারটেল ইতিমধ্যে প্রথম কিস্তি হিসাবে ওই অর্থের ৬০ শতাংশ টাকা বিটিআরসিতে জমা দিয়েছে। তবে বাংলালিংক এখনো প্রথম কিস্তির পুরো টাকা জমা দেয়নি। প্রথম কিস্তির হিসেবে তাদের ৫২৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা দিয়েছে ৩২১ কোটি টাকা। ফলে টাকা বাকি থাকায় গতকাল তাদের লাইসেন্স দেয়নি বিটিআরসি। যদিও গাইড লাইনের শর্ত অনুযায়ী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এই টাকা দিতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানি করতে বাংলালিংককে যে অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়েছে তাতে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে বলা হয়েছে, লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিমানবন্দর থেকে যন্ত্রপাতি খালাস করতে পারবে না।