যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলোকে ‘বিদেশি প্রতিপক্ষগুলোর’ হাত থেকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক নির্বাহী আদেশে এই পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প, যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা বিদেশি টেলিকম পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাধ্য হবে। ওই নির্বাহী আদেশে কোনো কোম্পানির নাম বলা হয়নি, কিন্তু চীনের হুয়াওয়ে কোম্পানিকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে বলেছেন, চীনা কোম্পানির ওপর অন্য দেশের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ঘোর বিরোধী বেইজিং।
পৃথক আরেকটি পদক্ষেপে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুয়াওয়ে টেকনোলজিস্ কোম্পানি লিমিটেড ও এর অন্তর্ভুক্ত ৭০টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ‘এনটিটি লিস্টে’ যুক্ত করেছে। এতে মার্কিন সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই কোম্পানিটি আর মার্কিন প্রযুক্তি কিনতে পারবে না। চীন গোয়েন্দাগিরিতে হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহার করতে পারে বলে সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র তার ফেডারেল সংস্থাগুলোতেও হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি মিত্রদেরও হুয়াওয়ের পণ্য বর্জনে উদ্ধুদ্ধ করে। এর জেরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতির ব্যবহার আটকে দেয়।
এদিকে, ট্রাম্পের এই জরুরি অবস্থার ঘোষণাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের পণ্য নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। বরং নিম্নমানের ও ব্যয়বহুল বিকল্প পণ্য ব্যবহারে বাধ্য হবে, যার ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। -বিবিসি