ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার না পেলে অবশ্যই আপিল করা হবে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ভারত সীমান্তে মর্মান্তিক কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার না পেলে আমরা অবশ্যই আপিল করব। আমরা ভারত সরকারের কাছে আপিলের প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. দীপু মনি আরো বলেন, সীমান্তে নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন নিয়ে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছি। তথ্য পেলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগ, গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিদেশে কারো মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। যদিও অনিশ্চয়তার কোন কারণ নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে বিদেশের অনেকে চিঠি লেখেন বা টেলিফোন করেন। এটা ইতিবাচক। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ থাকতে পারে। কারণ আমাদের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এগুচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সংলাপে রাজী আছেন। গ্রামীণ ব্যাংক ও অধ্যাপক ইউনূস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে নরওয়ের একটি চ্যানেল গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূস সম্পর্কে রিপোর্ট করে। সরকার এটি আমলে নিয়ে কমিটি গঠন করে। কমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজস্ব বোর্ড কর ফাঁকির তথ্য পায়। অনিয়ম বা আইনের লংঘন হলে তা খতিয়ে দেখা সরকারের দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশ ধারণার বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ ও মত দিয়েছে। তাদের উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই। সরকার সংবিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান ও এর সাবেক এমডিকে আইনের আওতায় আনছে। বেআইনী কিছু করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি বলেন, প্রায় প্রতিদিন দলের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, সংসদসহ বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে না যাবার সিদ্ধান্ত নেন। পরে জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনের পরামর্শে ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। ২০১৫ সাল পরবর্তী এমডিজি প্রণয়ন, বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্যের প্রেক্ষিতে সুদৃঢ় অবস্থান তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাবেন। বিরোধী দলের বক্তব্য দায়িত্বহীন ও অবাস্তব। ভারত সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আগে বৈরী সম্পর্ক ছিল। এখন সেই সম্পর্ক বহুমাত্রিক ও ব্যাপক বিস্তৃত। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা আগে একঘরে ছিলাম। এখন শান্তি আর সহযোগিতার সুবাতাস বইছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অনেক অর্জন হয়েছে। কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধার জন্য ভারতে রপ্তানি কয়েকগুণ বেড়েছে। দহগ্রাম, আঙ্গরপোতায় ২৪ ঘণ্টা যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে। পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, বিদ্যুত্ আমদানি, রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, নমনীয় ঋণ, রেল ও যোগাযোগ অবকাঠামো প্রকল্প-সবই সহযোগিতার ফলে সম্ভব হয়েছে। ভারতকে বন্ধু হিসাবে আমরা হারাচ্ছি না। পাঁচ বছরে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। আগামীতে আরো বিস্তৃত হবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ কারণে তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল আটকে আছে। আজ হোক, দুমাস পরে হোক এ দুটি বাস্তবায়ন হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। মিথ্যা ও অসত্য তথ্য দিয়ে কাউকে হেয় করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। এজন্যই চাঁদপুরে একজন ব্যক্তি একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।