বন্যাকবলিত আট জেলা লাখো মানুষ পানিবন্দি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৯
রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, নাটোর ও ফরিদপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বহু উপজেলায় গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলা সদরের কাওয়াকোলা, মেছড়া ও কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম, কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলসহ পাঁচটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম, চৌহালী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম, শাহজাদপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট তীব্র হচ্ছে। এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি বন্যার্তদের কাছে।
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী তীরবর্তী এনায়েতপুর থানার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের বেতিল চর, চাঁদপুর, মাজগ্রাম, বিনদহ, তেবাড়িয়া, খুকনীর গোপিনাথপুর, শিবপুর, সোনাতলা, রূপসী, জালালপুর এবং চৌহালী উপজেলার ঘোরজান, খাসকাউলিয়া, খাসপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও উমরপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের বেতিল চর, মাজগ্রাম, বিনদহ এলাকার নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের দুর্ভোগ বেশি। এসব এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ি এক থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে আছে।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম ) সংবাদদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রচণ্ড তোড়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ভাসমান ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিন তলা আবাসন প্রকল্প ও ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কমিউনিটি সেন্টার কাম বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙ্গে যাওয়া তিন তলা আবাসনের আংশিক মাত্র ৫০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করেছে প্রশাসন।
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, হঠাত্ করে গত কয়েকদিনে ফরিদপুরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে পদ্মা, আড়িয়াল খা, মধুমতি নদীর পানি। জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে, দিয়ারানারিকেল বাড়িয়া , চরনাসিরপুর, চরমানাইড়, ঢেউখালী।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দুই শতাধিক একর জমির আমন ধান বিলীন হয়েছে তিস্তায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমন ক্ষেত।
চলনবিল সংবাদদাতা জানান, মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে চলনবিলে সাড়ে চার ফুট থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নয় উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের জমিতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পদ্মা, যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করছে চলনবিলে।
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল মাদারগঞ্জ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি লোকজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে ছুটে আসছে। উপজেলার সঙ্গে তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন কোন এলাকা প্লাবিত হয়নি। এ পর্যন্ত জেলার চারটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের একশটি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত যেসব মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছিল তারা এখনও সেসব জায়গায় অবস্থান করছেন। তাদের বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট রয়েছে। প্রশাসন থেকে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
সরিষাবাড়ী সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালি নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় চারটি গ্রামের শতাধিক ঘর-বাড়ি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যমুনার ভাঙন অব্যাহত থাকায় তারাকান্দি-ভূয়াপুর সড়ক বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় পিংনা ইউনিয়নের কবুলিবাড়ী, বাশুরিয়া, চর বাশুরিয়া ও রাধানগর এ চারটি গ্রামের শতাধিক ঘর-বাড়ি যমুনায় বিলীন হয়েছে।