গ্রামীণের ৭ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য সঠিক নয়

আয়কর প্রদান সংক্রান্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সাতটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গত সোমবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আয়কর সুবিধা নিয়েছে অথচ আয়কর দেয়নি। সাতটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বেআইনি কর সুবিধা নেয়ার যে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। গ্রামীণ মত্স্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশনের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কৃষি খাত ও ব্যাংক সুদ আয়ের উপর আয়কর প্রযোজ্য হলেও কর দেয়নি। এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০ শতাংশ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করেনি। গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট শেয়ার কেনাবেচার উপর অর্জিত মুনাফা করমুক্ত দাবি করলেও নিয়মিত শেয়ার ট্রেডিং থেকে অর্জিত মুনাফার উপর আয়কর দেননি। গ্রামীণ কমিউনিকেশনস কুঋণ সঞ্চিতি বেশি দেখানোর মাধ্যমে মুনাফা কম দেখিয়েছে। গ্রামীণ শক্তি, সৌরশক্তি, বায়োল্যান্ড উত্পাদনের প্রযুক্তি বিক্রয় ও অন্যান্য উত্স থেকে আয় করে। এটি করযোগ্য প্রতিষ্ঠান। ইডকল নামক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপিটাল ফান্ড হিসেবে দেখিয়েছে। আয়কর আইনে ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অনুদানকে করমুক্ত করা হয়েছে; কিন্তু সৌরশক্তি, বায়োল্যান্ড উত্পাদনের প্রযুক্তি বিক্রয় ও অন্যান্য উত্স থেকে আয় করমুক্ত নয়। ফলে ইডকল থেকে প্রাপ্ত অনুদান করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনাযোগ্য। গ্রামীণ উদ্যোগ কাপড় তৈরি ও বিক্রয় ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে, যা ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে গঠিত নয়। ফলে প্রাপ্ত অনুদান করযোগ্য। গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যাংক সুদ ও লভ্যাংশ আয় করযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আয়মুক্ত দাবি করে কোন আয়কর দেয়নি। এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণও আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম মানেনি বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।