চট্টগ্রামে সহজলভ্য ভয়ংকর বিস্ফোরক ‘রকেট ফ্লেয়ার’
শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
চট্টগ্রামে সহজলভ্য হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক ‘রকেট ফ্লেয়ার’। সমুদ্রগামী জাহাজে সংকেত প্রদানের কাজে ব্যবহূত এ বিস্ফোরকটি এখন নানারকম অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন শিপইয়ার্ড থেকে সহজেই রকেট ফ্লেয়ার সংগ্রহ করা যায়। নানা সামাজিক উত্সবে রকেট ফ্লেয়ারের ব্যবহার দেখা গেলেও ইদানিং তা অপরাধীদের অন্যতম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা শুরু হয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর রকেট ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকা থেকে ১২টি এমকে-৩ রকেট ফ্লেয়ারসহ সন্দেহভাজন এক শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজার জেলার মহেষখালি উপজেলার কালারমার ছড়া বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠে ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার করে র্যাব ৭। তাদের কাছ থেকেও ৪টি রকেট ফ্লেয়ার উদ্ধার করা হয়। ডাকাতি করার সময় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ডাকাতরা রকেট ফ্লেয়ার সঙ্গে রেখেছিল বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রায় দেড় ফুট দীর্ঘ এবং দুই ইঞ্চি ব্যাসের রকেট ফ্লেয়ার পরিপূর্ণ থাকে বিস্ফোরকে। এটি প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ার সময় আগুনের ফুলকি সৃষ্টি হয়। সমুদ্রগামী জাহাজগুলো এর সাহায্যে সংকেত প্রেরণ করে থাকে।
এ ব্যাপারে গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব ৭ কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অধিনায়ক কমান্ডার এম সাহেদ করিম বলেন, অপরাধীরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য রকেট ফ্লেয়ার ব্যবহার করে। এটি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক হলেও রকেট ফ্লেয়ার অবাধে কেনাবেচা ও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, রকেট ফ্লেয়ার একটি প্রয়োজনীয় জিনিস হলেও অপরাধীরা এর অপব্যবহার শুরু করেছে। অপব্যবহার বন্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।