পুষ্টি উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ জনসংখ্যা বৃদ্ধি
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৩
রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দারিদ্র্য এবং পুষ্টিহীনতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দারিদ্র্যই পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ। পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের তিন কোটি লোক এখনও হতদরিদ্র এবং পুষ্টিহীনতাও তীব্র। এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নে মধ্যবর্ত্তিতার প্রতি অধিক মনোযোগ দিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঐ কর্মশালায় তারা এ কথা বলেন।
‘দেশের দক্ষিণ ব-দ্বীপ অঞ্চলে বাড়ির পিছনের উঠোন এবং ছোটো আকারের পোল্ট্রি উত্পাদন বাড়িয়ে নারী ও শিশুর খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি’ এবং ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে উন্নত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত কৃষি এবং স্বাস্থ্যভিত্তিক মধ্যবর্ত্তিতা’ শীর্ষক দুইটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মত্স্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জল বিকাশ দত্ত বলেন, দেশের খাদ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ধান উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য উত্পাদনে সক্ষমতা অর্জন দেশের শুধু পুষ্টি পরিস্থিতি না সার্বিক অবস্থাতেই গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ইউএসএআইডি,ইউনিসেফ, এফএও’র সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে, আরো কয়েকটি গৃহীত হবে। এর মাধ্যমে পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বড় সহযোগিতা পাবো। এ কর্মশালাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা দিবে।
মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সেলিনা আফরোজা বলেন, উন্নত জাতি গঠনে শতভাগ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরে এক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে, কিন্তু আরো কিছু পথ হাঁটতে হবে।
ইউএসএআইডি’র বাংলাদেশ মিশনের পরিচালক রিচার্ড গ্রিন বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে উন্নত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত কৃষি এবং স্বাস্থ্যভিত্তিক মধ্যবর্ত্তিতা’ প্রকল্পটিতে ইউএসএআইডি ৪২ লাখ ডলার অর্থায়ন করবে। এই সমন্বিত পুষ্টি উদ্যোগ দক্ষিণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ২ লাখ ৫০ হাজার লোককে আওতাভুক্ত করবে। এছাড়া কমিউনিটি কেন্দ্রিক খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা প্রকল্প উন্নয়নে সহযোগিতা করবে। এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন বলেন, ধান উত্পাদনে বাংলাদেশ কমবেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। শিশু পুষ্টিহীনতা দূরকরণেও সাফল্য দেখিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আরও দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ শাখার ডেপুটি প্রতিনিধি লুইজ মভোনো।
‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে উন্নত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত কৃষি এবং স্বাস্থ্যভিত্তিক মধ্যবর্ত্তিতা’ শীর্ষক প্রকল্প উপস্থাপন করেন পুষ্টিবিদ ললিতা ভট্টাচার্য ও হেইডি ইপ। ‘দেশের দক্ষিণ ব-দ্বীপ অঞ্চলে বাড়ির পিছনের উঠোন এবং ছোটো আকারের পোল্ট্রি উত্পাদন বাড়িয়ে নারী ও শিশুর খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প উপস্থাপন করেন বিনোদ আহুজা ও আমিন মল্লিক।