পুলিশে বাড়ছে টিআর পদ

পুলিশের টিআর (ট্রেইনিং রিজার্ভ) পদ বাড়ানো হচ্ছে। ঐপদে ২ হাজার ১শ’ ১৮ জনকে নিয়োগের একটি প্রস্তাব পুলিশ সদর দফতরের আরএন্ডএম (রিক্রুটমেন্ট এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের আরএন্ডএম শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে টিআর পদে পুলিশের নির্ধারিত কোটার অনেক কম সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের আরএন্ডএম শাখার একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়, পুলিশের জনবল এখন বেড়ে ১ লাখ ৫২ হাজার ৬শ’৪৮ জন হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় ১৮শ পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাছাড়া প্রশিক্ষণ, প্রেষণ, লিয়েন ও ছুটিজনিত কারণে প্রায় সময় ৩শ’ থেকে ৪শ’ পুলিশ সদস্য অনুপস্থিত থাকেন। এসব শূন্য পদগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এ কারণে এই বাহিনীতে ১২ ভাগ ট্রেইনিং রিজার্ভ পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বর্তমান জনবলের বিপরীতে ২ হাজার ১শ’ ১৮টি টিআর পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। আরএন্ডএম শাখা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই তত্কালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন ক্যাডারে কর্তব্যরত কর্মচারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ, প্রেষণ, লিয়েন ও ছুটিজনিত কারণে অনেক পদ শূন্য থাকে। এ কারণে সরকারের কাজের গতিশীলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এসব কারণে শূন্য পদে টিআর পদ থেকে কর্মকর্তাদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করা যেতে পারে। এজন্য ঐ ক্যাডারের মোট পদের শতকরা ১২ ভাগ জনবল অতিরিক্ত হিসাবে নিয়োগ দেয়া হবে। এই ১২ ভাগ পদের নাম হবে ট্রেইনিং রিজার্ভ (টিআর)। ১৯৯৮ সালের ঐ আদেশের বলে পুলিশ বিভাগে ঐ সময় মোট জনবলের বিপরীতে মাত্র ৪ ভাগ হিসাবে ৩৩৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়। পদগুলো হলো এডিশনাল আইজি ১ জন, ডিআইজি ২ জন, এসপি ১২ জন, এডিশনাল এসপি ১০ জন, সিনিয়র এএসপি ১২ জন, এএসপি ৪৬ জন ও এসআই ২৫২ জন। এরপর থেকে পুলিশের জনবল বাড়লেও টিআর পদ বাড়ানো হয়। নতুন করে কোন পদও সৃষ্টি হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো টিআর পদের প্রস্তাবনায় ডিআইজি ৩টি, এডিশনাল ডিআইজি ৯টি, এসপি ১৬টি, এডিশনাল এসপি ৪৬টি, সিনিয়র এএসপি ১৯টি, এএসপি ৬৭টি, ইন্সপেক্টর ৪৬৯টি ও এসআই ১৪৮৯টি পদ সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবনায় টিআই, সার্জেন্ট, এএসআই ও কনস্টেবলদের জন্য কোন টিআর পদ চাওয়া হয়নি।