মুক্তিপণের টাকা নিয়ে অপহূতকে স্ত্রীর সামনে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাটের শরণখোলায় অপহরণের তিনদিন পর বাদশা হাওলাদারকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী শেফালী বেগমের সামনেই গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা ক্যাম্প সংলগ্ন ইসমাইলের সিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কাদের হাওলাদারের পুত্র বাদশা হাওলাদারকে (৫২) ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা নিজেদের কালু বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। এ সময় তারা গৃহবধূ শেফালী বেগমের স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন সেট লুট করে। এ ঘটনায় ওইদিন অপহূতের জামাই মোঃ ডালিম শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ডালিম জানান, স্বামীকে উদ্ধার করতে দুর্বৃত্তদের কথামতো শেফালী বেগম বৃহস্পতিবার বিকালে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে সুন্দরবনের ভোলা ক্যাম্প এলাকায় যান। সেখানে টাকা হস্তান্তরের সাথে সাথে স্ত্রী শেফালীর সামনেই বাদশাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে শেফালী বেগম অচেতন হয়ে পড়লে নৌকার মাঝি মোঃ আলম মিয়া তাকে বন বিভাগের পার্শ্ববর্তী ভোলা ক্যাম্পে নিয়ে আসে। তবে অপহরণের পর পুলিশকে জানানো হলেও তাদের কোন তত্পরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, এ ঘটনায় বুধবার শরণখোলা থানায় একটি মামলা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিহত বাদশার পুত্র আল-আমীন দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদী আরবে অবস্থান করছেন।