বলির পাঁঠার ধৈর্য আর অধৈর্য
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪২
ফেলানি হত্যা বিচারের রায় জাতিকে আবারও আহত ও অপমানিত করলো। যদিও ভারত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহলের কাছে এমনটি আদৌ অপ্রত্যাশিত ছিল না। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জনগণকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন! বটে! বলির পাঁঠার ধৈর্য আর অধৈর্য!
বিএসএফ নাকি কেবল আত্মরক্ষা আর চোরাকারবারি ঠেকাতে বাধ্য হয়েই গুলি চালায়। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো বিএসএফ-এর গুলিবিদ্ধ হওয়ার রেকর্ড নেই, নজির নেই কোনো মদ আর ফেনসিডিল বাহকের মৃত্যু ঘটার। কারণ বাংলাদেশের তরুণ সমাজের চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে সীমানা ঘিরে ওরা গড়ে তুলেছে কমবেশি দেড় শ’ ফেনসিডিল কারখানা। অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের চোরাচালানিরা ওদের গরু নিয়ে আসে। গরু নিশ্চয় টাকা-পয়সার মতো পকেটে করে আনা যায় না, সহযোগিতা লাগে বিএসএফ-এরও। ভারতের দু’টি রাজ্য ছাড়া সর্বত্র গরু জবাই (‘গো হত্যা’) নিষিদ্ধ। ওদের কোটি কোটি গরু মরেও না— বুড়ো হয় না, তবে ওগুলো যায় কোথায়?
বিএসএফ-এর দুর্ভাগ্য, অন্য লাশগুলোর মতো ফেলানির লাশটা তারা সরিয়ে নেয়নি তাত্ক্ষণিকভাবে, হয়তো তাদের ক্ষমতা ও নৃশংসতা বোঝাবার জন্যই। কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানি নয় প্রতিকী বাংলাদেশটাই ঝুলছিল আসলে। এমন ঘটনা পশ্চিমের শত্রু সীমান্তেও ঘটে কি? তাহলে ভারতের কাছে বন্ধুর চেয়ে শত্রুই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ?
ফেলানির করুণ মৃত্যুতে অসুর হূদয় বিগলিত না হলেও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের হূদয়ের গভীরে দাগ কেটেছে। অপমান-উপেক্ষা আর নৃশংসতার প্রতীক হয়ে আছে ফেলানি তাদের কাছে। অথচ হূদয়ের এই আকুতি প্রকাশে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে গিয়েও পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছে এই দেশেরই মানুষ। বুলেটের জবাব বুলেট দিয়ে নয় শান্তিপূর্ণভাবেই দিতে হবে বাংলাদেশকে। তাই আমাদের দাবি— ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসমুখী রাস্তাটি ফেলানির নামে নামকরণ করা হোক, চালু করা হোক ফেলানি স্মারক ডাকটিকিট।
গাজীপুর