পিঁয়াজের বাজার আবার অস্থির
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৪
আবারও অস্থির পিঁয়াজের বাজার। মাঝে কয়েকদিন স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এমন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজের দাম আবারও ৮০ টাকা ছুঁয়েছে। ফলে নতুন করে পিঁয়াজের ঝাঁজে দিশেহারা ক্রেতারা।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কম দামে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করলেও তাদের হাতে এখন কোন পিঁয়াজ না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এই সুযোগে বাজার অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র বলে জানা গেছে।
গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও শান্তিনগরবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এক সপ্তাহ আগেও আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদার তুলানায় পিঁয়াজের সরবরাহ নেই। ভারত থেকে পিঁয়াজের আমদানি অনেক কমে গেছে। এছাড়া চীনের পিঁয়াজের মান ভালো না হওয়ায় আমদানিকারকরা লোকসানের কারণে তা আমদানি করছে না।
ব্যবসায়ীরা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পিঁয়াজ রফতানিকারক দেশ ভারতের পিঁয়াজ রফতানি গত আগস্ট মাসে ৮১ শতাংশ কমেছে। দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য বৃদ্ধি রোধে রফতানির লাগাম টেনে ধরেছে। ফলে গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় পিঁয়াজ রফতানি এক লাখ ৫৬ হাজার ২৮৩ টন থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২৪৭ টন।
কাওরানবাজারের পাইকারী পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আলতাফ বলেন, সরবরাহ না থাকলে দামতো বাড়বেই ! তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছে দেশি পিঁয়াজের যে মজুদ ছিল তা এখন কমতির দিকে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় ও সরবরাহ কম থাকায় ভারত থেকে চাহিদামতো পিঁয়াজ আমদানি করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে টিসিবির ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, পিঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে বলে টিসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।