ক্ষতিপূরণের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি জেনেভা বৈঠকে

রানা প্লাজা ও তাজরীন গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের জন্য কোনরূপ ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত ছাড়াই জেনেভায় আয়োজিত বৈঠক শেষ হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার উদ্যোগটি আপাতত ব্যর্থ হলো। বৈঠকে ওয়ালমার্ট, বেনেটন ও ম্যাঙ্গে’র মত ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যোগ দেয়নি। যদিও দুর্ঘটনার শিকার ওইসব ভবনে তাদেরও পোশাক তৈরি হতো। বুধবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকের আয়োজক ছিল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ইন্ডাস্ট্রিঅল’। এতে ১২টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রিঅল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ চেয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত পোশাক কোম্পানিগুলো এতে রাজি হয়নি বলে বিসিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা জেড এম কামরুল আনামের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকে উপস্থিত নয়টি আন্তর্জাতিক পোশাক কোম্পানি বিশেষ কমিটি গঠন করে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের সঙ্গে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল, তারা এক সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থ জোগাড় করবে। এই কোম্পানিগুলো আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক করে তাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। অবশ্য এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক রানা প্লাজায় তাদের শ্রমিকদের তিন মাসের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে। বৈঠকের সার্বিক ফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইন্ডাস্ট্রিঅলের সহকারী প্রধান মনিকা ক্যাম্পার্ল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর পাঁচ মাস কেটে গেছে। কিন্তু মাত্র একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। জেনেভা বৈঠকের উদ্যোক্তারা রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের জন্য যথাক্রমে সাড়ে সাত কোটি মার্কিন ডলার এবং ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।