বিনিয়োগ বাড়াতে অনুকূল পরিবেশ চায় জাপান

ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ চায় জাপান। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাতা সংস্থা জাইকা ও বিনিয়োগ সংস্থা জেটরোর নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করেন বাংলাদেশের একক বৃহত্তম দাতা হিসেবে জাপানের অর্থ সহায়তা ও বিনিয়োগ সুরক্ষিত হতে হবে। সেই সাথে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আছে। তাই এজন্য বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা আবশ্যক। রাজনৈতিক কারণে বা নির্বাচন কেন্দ্রিক গোলযোগের প্রভাবে সংঘাত বা সহিংসতা বিরাজ করলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সীমিত হয়ে যাবে। বড় বড় জাপানী কোম্পানিগুলো শঙ্কিত হয়ে ফিরে যাবে। সম্প্রতি জাপানের রাজধানী টোকিওতে ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি জাইকার কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আর্থ সামাজিক খাতে আমরা বড় ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। যোগাযোগ, বিদ্যুত্, কৃষি ও স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানালেন জাইকা দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক তাকিমোতো কোহেই। তিনি বলেন, ২০১২ সালের সহায়তার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ হয়েছে। জাপানের অর্থঋণ সবচেয়ে কম সুদে (শূন্য দশমিক এক শতাংশ) দেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জাপানী অর্থায়নে ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে ঢাকায় দুই বিলিয়ন ডলারের এমআরটি প্রকল্প। বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুতে শেষ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে না পারায় আমরা হতাশ। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে ঐ কর্মকর্তা জানান। জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন জেটরোর সিনিয়র সমন্বয়কারী নাওউকি মায়েকাওয়া ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জানান, ১৬৭টি জাপানী কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে আছে। ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ ছিল। জাপানের ইউনিক্লো, ওয়াইকেকে নিপরো, মিত্সুবিসিসহ অনেক বড় কোম্পানী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। ২০১১-১২ সালে ১১৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করে দক্ষ ও সস্তা শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগ হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক মাসে হরতাল আর সহিংসতার জন্য অনেকে দ্বিধা আর শংকায় আছে। ২০১৪ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে এই শংকা কাটবে না। বাংলাদেশের উপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৪৩ শতাংশ জাপানী কোম্পানী এখানে লাভ করছে। ২৪ শতাংশ সমান অবস্থানে আর ৩৩ শতাংশ লোকসান করছে। লোকসানী প্রতিষ্ঠানগুরো সম্প্রতি ব্যবসা শুরু করেছে। জেটরোর ঐ কর্মকর্তা মনে করেন, জাপানী কোম্পানীগুলোর জন্য একক ইপিজেড দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণাও দিয়েছেন। কিন্তু আজও কার্যকর হয়নি। কারণ তৈরি পোশাক, সেবা ও অন্যান্য খাতের কোম্পানীগুলোর বেশির ভাগই উত্পাদিত পণ্য রপ্তানি করছে। তাই একক ইপিজেড খুবই জরুরী। জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এই প্রতিনিধিকে জানান, সম্প্রতি কয়েক বছরে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর ও সুদৃঢ় হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয় আমাদের। রপ্তানি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী একক ইপিজেড হলে রপ্তানি দ্বিগুণ হবে।