সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে আমি এখনো আশাবাদী:ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো আশাবাদী ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকার দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আদায়ে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) নেতৃবৃন্দের এক সভায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি বিমর্ষ কিংবা হতাশ নই। বিজেপি, আসম গণপরিষদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা সত্ত্বেও সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের জন্য সংবিধান সংশোধন বিল রাজ্যসভায় উত্থাপনের প্রক্রিয়াটি এখনো চলছে। কিছু সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে এক ধরনের মতৈক্য রয়েছে। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু এমপি’র বিরোধিতা। কিন্তু তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে তারা খুব শিগগিরই উদ্বিগ্ন হবে। বৃহস্পতিবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। স্থলসীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বিনিময়ের কথা রয়েছে। খুরশিদ বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়াটা অস্বস্তিকর, তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আরো আলোচনা করবে। এ ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা করতে পারলে খুশিই হবো। উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালে সই হওয়া এ সংক্রান্ত প্রটোকল বাস্তবায়নে ভারতের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার গত মাসে তৃতীয়বারের মতো পার্লামেন্টে বিলটি তোলার উদ্যোগ নিলেও কয়েকটি দলের বিরোধিতার কারণে ব্যর্থ হয়। কোনো বিল পাস করতে হলে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার; যা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের নেই।